খুঁজুন
advertisement
advertisement
বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

জলবায়ুজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকিতে বছরে ক্ষতি ২ হাজার ৭০ কোটি ডলার

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৫৪ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
জলবায়ুজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকিতে বছরে ক্ষতি ২ হাজার ৭০ কোটি ডলার

জলবায়ুজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকিতে বছরে ক্ষতি ২ হাজার ৭০ কোটি ডলার

অর্থনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত তীব্র তাপপ্রবাহ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে প্রতিবছর বিশাল অঙ্কের অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে। সম্প্রতি প্রকাশিত বেসরকারি গবেষণা সংস্থা নলেজ হাব ইনস্টিটিউটের এক প্রতিবেদনে এই alarming তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে স্বাস্থ্যখাতে যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, তার আর্থিক মূল্য প্রায় দুই হাজার ৭০ কোটি ডলার বা দুই লাখ সাত হাজার কোটি টাকার বেশি। এই বিশাল পরিমাণ অর্থ দেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির চার দশমিক ছয় শতাংশের সমান। মানুষের কর্মক্ষমতা হ্রাস, অকালমৃত্যু এবং বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির অর্থনৈতিক মূল্যায়ন করেই মূলত এই হিসাব তৈরি করা হয়েছে। তবে জলবায়ুজনিত এসব স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলা করার জন্য দেশের স্বাস্থ্যখাতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এবং পর্যাপ্ত অর্থায়নের যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে বলে পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়। সম্প্রতি রাজধানী ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই গবেষণার ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গসহ সংশ্লিষ্ট গবেষকরা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, মূলত বিগত দশকের তুলনায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে অসহনীয় তাপমাত্রার দিনের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে হৃদ্রোগ, কিডনি জটিলতা এবং শ্বাসতন্ত্রের নানা রোগ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের কারণে মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুর বিস্তার লাভের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যকে আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।

গবেষণার হিসাব বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত বছর অতিরিক্ত তাপপ্রবাহের কারণে দেশে প্রায় দুই হাজার ৯৩০ কোটি সম্ভাব্য কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়েছে। কেবল এই নষ্ট হওয়া কর্মঘণ্টার অর্থনৈতিক মূল্যই প্রায় এক হাজার ৫৭০ কোটি ডলারের সমান। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের কৃষি খাত, যেখানে মোট হারানো কর্মঘণ্টার প্রায় চৌষট্টি শতাংশ ব্যয় হয়েছে। তীব্র গরমের কারণে কেবল কৃষিশ্রমিকরাই নন, বরং নির্মাণশ্রমিক এবং খোলা আকাশের নিচে কঠোর শারীরিক পরিশ্রম করা পেশাজীবীরাও প্রতিনিয়ত নিজেদের কর্মক্ষমতা ও আয় হারাচ্ছেন। তবে এই হিসাবের মধ্যে বায়ুদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব এবং প্রাণঘাতী নয় এমন অন্যান্য অসুস্থতার চিকিৎসা ব্যয় যুক্ত করা হয়নি। ফলে বাস্তব ক্ষেত্রে অর্থনীতির ওপর সামগ্রিক ক্ষতির বোঝা আরও অনেক বেশি ভারী হবে বলে গবেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। মডেলভিত্তিক বিভিন্ন হিসাবের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, কেবল উচ্চ তাপমাত্রার সঙ্গে সম্পর্কিত নানা জটিলতার কারণে এক বছরে দেশে প্রায় ১৬ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। বন্যায় নিরাপদ খাবার পানির তীব্র সংকট তৈরি হওয়া, সামগ্রিক পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়া এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার মতো গুরুতর ঝুঁকিগুলোও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। এ ছাড়া গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের সাধারণ মানুষ তাদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে নিজেদের পকেট থেকেই ব্যয়ের সিংহভাগ বহন করছে, যা দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য আরও বড় চাপ তৈরি করছে।

গবেষণায় ডেঙ্গু সংক্রমণের সঙ্গে তাপমাত্রার একটি স্পষ্ট যোগসূত্র তুলে ধরে বলা হয়েছে, তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকলে পরবর্তীতে হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর ভর্তির হার বহুগুণ বেড়ে যায়। কেবল একটি নির্দিষ্ট বছরেই ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছে, যার সঙ্গে বহির্বিভাগের চিকিৎসার খরচ যুক্ত নেই। তাছাড়া গত কয়েক বছরে আকস্মিক বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং বায়ুদূষণের কারণে বহু মানুষ মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁkinর শিকার হয়েছে। অথচ এমন একটি জটিল পরিস্থিতিতেও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বরাদ্দকৃত বাজেট যথাসময়ে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নির্দিষ্ট একটি অর্থবছরে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ জলবায়ুসংক্রান্ত কার্যক্রমের জন্য বরাদ্দ অর্থের খুব সামান্য অংশই সঠিকভাবে ব্যয় করতে সক্ষম হয়েছে। এই বাস্তবতায় বিশেষজ্ঞরা স্বাস্থ্যখাতের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু অভিযোজন কার্যক্রমে বরাদ্দ বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরাও মনে করছেন যে, বর্তমান জনস্বাস্থ্য সংকট কাটিয়ে উঠতে হলে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের হার বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।

জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক স্বাস্থ্যগত প্রভাব থেকে রক্ষা পেতে নলেজ হাব ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট ও সময়োপযোগী সুপারিশমালা পেশ করা হয়েছে। এর মধ্যে আগামী গ্রীষ্ম মৌসুমের আগেই একটি কার্যকর জাতীয় তাপ ও স্বাস্থ্য কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে দেশের অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে সেখানে জরুরি ভিত্তিতে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা কার্যক্রম গ্রহণ করার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া স্বাস্থ্যখাতের জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগগুলোকে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত রাখা, কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকদের জন্য পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন গবেষকরা। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের জন্য আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা জোরদার করা এবং পরিবেশবান্ধব পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর সুপারিশও করা হয়েছে। মহিলা, শিশু ও শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মতো সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর বিশেষ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

advertisement
advertisement

মরুর দেশের দুম্বা পালন করা হচ্ছে বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গায়, কতটা লাভজনক

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩ নভেম্বর ২০২৬, ২:৩৮ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
মরুর দেশের দুম্বা পালন করা হচ্ছে বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গায়, কতটা লাভজনক

মরুর দেশের দুম্বা পালন করা হচ্ছে বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গায়, কতটা লাভজনক

অর্থনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গায় এবার মধ্যপ্রাচ্যের জনপ্রিয় মরুভূমির প্রাণী দুম্বা পালনের অভিনব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রচলিত গবাদিপশুর পাশাপাশি ভিন্নধর্মী এই প্রাণীটি লালন-পালন করে সফলতার মুখ দেখার চেষ্টা করছেন এ অঞ্চলের উদ্যোক্তারা। মূলত আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং খাদ্যাভ্যাস মিলে যাওয়ায় এই দেশীয় খামারগুলোতে দুম্বা বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে বেড়ে উঠছে।

উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, দুম্বা পালনের জন্য খুব বড় পরিসরে কোনো অবকাঠামোর প্রয়োজন হয় না এবং এর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বেশ ভালো। সাধারণ ছাগল বা ভেড়ার মতো করেই এদের পরিচর্যা করা সম্ভব, যা খামারিদের জন্য বাড়তি সুবিধা তৈরি করেছে। এর প্রধান খাদ্য হিসেবে ঘাস, খড় ও দানাদার খাবারের পাশাপাশি দেশীয় প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে, যা খরচ অনেকটাই কমিয়ে আনছে।

বর্তমানে বাজারে দুম্বার মাংসের প্রচুর চাহিদা থাকায় স্থানীয় পর্যায়ে এর অর্থনৈতিক সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কোরবানি ঈদ কিংবা বড় কোনো সামাজিক আয়োজনে এসব দুম্বার চড়া দাম পাওয়া যায়, যা খামারিদের মোটা অঙ্কের মুনাফা অর্জনে সাহায্য করছে। সাধারণ গরুর খামারের তুলনায় কম খরচে ও স্বল্প সময়ে দুম্বা বিক্রি করে বেশি লাভবান হওয়া সম্ভব হওয়ায় নতুন অনেকেই এই ব্যবসায় আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকেও দুম্বা পালনকারী উদ্যোক্তাদের সার্বিক পরামর্শ ও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে চুয়াডাঙ্গার গণ্ডি পেরিয়ে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও এই লাভজনক দুম্বা পালন ছড়িয়ে পড়বে বলে আশা প্রকাশ করছেন খামারি ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

সাইবার হামলায় অকেজো ইউরোপের সাত দেশের সুপারমার্কেট ফ্রিজ

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১:৩১ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সাইবার হামলায় অকেজো ইউরোপের সাত দেশের সুপারমার্কেট ফ্রিজ

সাইবার হামলায় অকেজো ইউরোপের সাত দেশের সুপারমার্কেট ফ্রিজ

প্রযুক্তি ডেস্ক: ইউরোপের সাতটি দেশের অসংখ্য সুপারমার্কেটের হিমায়ন ব্যবস্থায় বড় ধরনের সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই আকস্মিক সাইবার আক্রমণের ফলে দোকানগুলোর বহু রেফ্রিজারেটর এবং ডিপ ফ্রিজ সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়ে। এর ফলে বিপণি বিতানগুলোতে সংরক্ষিত বিপুল পরিমাণ কাঁচা ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য নষ্ট হয়ে যাওয়ার তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর একাধিক সুপারমার্কেট চেইন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

আক্রান্ত হওয়া দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বেলজিয়াম, সুইডেন, আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড এবং লুক্সেমবার্গ। বেলজিয়াম ও লুক্সেমবার্গে ডেলহেইজের প্রায় চল্লিশটি শাখা এই হামলার শিকার হয়েছে। এছাড়া ফরাসি মালিকানাধীন সুপারমার্কেট ক্যারেফোরের বেলজিয়াম শাখা এবং কোলরুইট গ্রুপের পরিচালনাধীন স্পার স্টোরের বেশ কয়েকটি দোকানেও একই সমস্যা দেখা দিয়েছে। সুইডেনের আইকিয়া, আইসিএ এবং কুপের পাশাপাশি আয়ারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের বিভিন্ন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানও এই হামলার কবলে পড়েছে।

ফ্রিজ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান সাবকোবেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টেফান মোয়েলানস বেলগা সংবাদ সংস্থাকে জানান যে হ্যাকাররা সুনির্দিষ্ট কৌশলে ফ্রিজগুলোর ইভাপোরেটর ডিফ্রস্ট মোডে পাঠিয়ে দেয়। এর ফলে যন্ত্রগুলোর তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে শুরু করে এবং কিছু ক্ষেত্রে তা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে যায়। এর আগে কিছুদিন আগে ফ্রান্সেও একই কায়দায় সাইবার হামলা চালানো হয়েছিল। ইন্টারনেটের সঙ্গে সংযুক্ত থাকার সুবাদে দূর থেকেই এই ত্রুটি ঘটানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত যন্ত্রগুলো নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করতে কারিগরি দলগুলো রাতভর পরিশ্রম করেছে।

এই সাইবার হামলার পেছনে কারা জড়িত রয়েছে এবং কী উদ্দেশ্যে এটি করা হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট হয়নি। বেলজিয়াম, সুইডেন ও যুক্তরাজ্যের জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সংস্থাগুলো যৌথভাবে পুরো বিষয়টি গভীর পর্যবেক্ষণে রেখেছে। মার্কিন সামরিক ঘাঁটির হিমায়ন ব্যবস্থায় সম্প্রতি ঘটিত কোনো ত্রুটির সঙ্গে ইউরোপের এই ঘটনার যোগসূত্র রয়েছে কি না, তাতি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে বেলজিয়ামের একটি শাখা কর্তৃপক্ষ প্রায় এক লাখ ইউরো মূল্যের পণ্য নষ্ট হওয়ার কথা জানিয়েছে। তবে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেছে।

নিজ দলের কোন্দলেও চাঙা মার্কিন মুসলিম ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর সমর্থকেরা

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩ নভেম্বর ২০২৬, ৪:৫৮ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
নিজ দলের কোন্দলেও চাঙা মার্কিন মুসলিম ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর সমর্থকেরা

নিজ দলের কোন্দলেও চাঙা মার্কিন মুসলিম ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর সমর্থকেরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ডেমোক্র্যাট দলের ভেতরকার কোন্দল ও বিভক্তি নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান হ্যালি স্টিভেন্স নিজ দলের প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদকে সমর্থন না দিয়ে উল্টো বিরোধী দলের সিনেট প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। দলের একজন প্রভাবশালী নেতার এমন বিতর্কিত সিদ্ধান্ত সত্ত্বেও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আল-সাইয়েদের সমর্থকেরা দমে যাননি। বরং এই অভ্যন্তরীণ সংকটের কারণে তারা আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নেমেছেন এবং প্রচারণায় নতুন গতিশীলতা এসেছে।

সম্প্রতি মিশিগানের সাউথফিল্ডে আয়োজিত এক নির্বাচনি সমাবেশে আল-সাইয়েদের সমর্থকদের মধ্যে তীব্র উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ করা গেছে। সমাবেশে অংশ নেওয়া সাধারণ কর্মী ও সমর্থকেরা জানান, দলীয় নেতার এমন অবস্থান তাদের জন্য কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলেনি, বরং তাদের মনোবল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ডেমোক্র্যাট দলের সমর্থকেরা মনে করেন, দলের ভেতরের এই অনৈক্য উপেক্ষা করে আল-সাইয়েদের বিজয় নিশ্চিত করতে সবাইকে আরও জোরালোভাবে কাজ করতে হবে।

সমাবেশে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি মন্তব্য করেছেন যে, দলীয় প্রার্থীর বদলে রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত হ্যালি স্টিভেন্সের নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্যই ক্ষতিকর প্রমাণিত হতে পারে। তাদের মতে, এই ধরনের অবস্থান দলের ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে যা শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষেই বেশি কাজে লাগতে পারে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের এমন ঘটনাকে তারা একধরনের বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবেও অভিহিত করেছেন।

এদিকে দলীয় কোন্দলের মাঝেও আল-সাইয়েদের নির্বাচনি প্রচারশিবির দারুণ এক আর্থিক সাফল্যের মুখ দেখেছে। স্টিভেন্সের বিরোধিতার ঘোষণার পরপরই মাত্র একদিনের ব্যবধানে তাদের তহবিলে চব্বিশ লাখ ডলারের বেশি জমা হয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ঊনত্রিশ কোটি টাকা। প্রচারণা শুরু হওয়ার পর এটিই তাদের একদিনে সর্বোচ্চ ফান্ড সংগ্রহের রেকর্ড। এই অভাবনীয় সাফল্যকে সমর্থকেরা নিছক কাকতালীয় বলতে নারাজ, বরং একে তারা দলীয় ঐক্যের বড় প্রমাণ হিসেবে দেখছেন।