খুঁজুন
advertisement
advertisement
বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে বিতর্ক: প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পদ ছাড়ছেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩ নভেম্বর ২০২৬, ৪:৫২ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে বিতর্ক: প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পদ ছাড়ছেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন

ইশরাক হোসেনের ফেসবুক পেজে মাদকবিরোধী অভিযানের ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছিল। সেখানে পিস্তলের ছবি অস্পষ্ট করে দেওয়া হয়। তবে ভিডিওর কিছু অংশে আগ্নেয়াস্ত্রের স্পষ্ট ছবি পাওয়া যায়

পারিবারিক ঐতিহ্য, রাজপথের সংগ্রাম ও মেয়র নির্বাচনের দৌড় দিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে অবস্থান তৈরি করেছিলেন ইশরাক হোসেন। প্রথম দফায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েই মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর আসন পাওয়া তাঁর ক্যারিয়ারে এক বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছিল। তবে সম্প্রতি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। শেষ পর্যন্ত আট মাসের মাথায় মন্ত্রিসভা ছাড়তে হচ্ছে ৩৯ বছর বয়সী এই রাজনীতিবিদকে। রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় অস্ত্র উঁচিয়ে চালানো সেই অভিযানের ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার পরদিনই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে ডেকে নিয়ে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। এরপরই আজ সকালে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া বার্তায় ইশরাক জানান যে তিনি দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াবেন।

চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের মাধ্যমে ১৮ বছর পর ক্ষমতায় ফেরে বিএনপি। পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন তারেক রহমান। এর আগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটে। এরপর থেকেই ক্ষমতার অপব্যবহার বা বাহাদুরি প্রদর্শনের বিপরীতে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সংযত আচরণের বিষয়ে জনমনে গভীর প্রত্যাশা তৈরি হয়। সরকারের এই মেয়াদে শৃঙ্খলাভঙ্গের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে গত মাসেই মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার জেরে দলের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগে বাধ্য করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। ইশরাকের ক্ষেত্রেও একই ধরনের দৃঢ় মনোভাব প্রকাশ পেল, যা ক্ষমতাসীন দলের অন্যান্য নেতাকর্মী ও মন্ত্রীদের জন্য একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা।

মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক মন্ত্রী এবং অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের শেষ মেয়র সাদেক হোসেন খোকার সাংগঠনিক ভিত্তির ওপর ভর করেই রাজনীতিতে পা রাখেন তাঁর ছেলে ইশরাক। ২০১৯ সালের ৪ নভেম্বর বাবার প্রয়াণের পর তিনি পুরান ঢাকায় সক্রিয় হয়ে ওঠেন। বিদেশে প্রকৌশল বিষয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা এই ব্যবসায়ী ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের সময় থেকে রাজনীতিতে যুক্ত হন। পরবর্তীতে তিনি দলের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য হন এবং ঢাকা দক্ষিণের রাজনীতিতে প্রভাবশালী অবস্থান গড়ে তোলেন। এরপর গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৬ আসন থেকে জয়ী হয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি।

এর আগেও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে একাধিকবার বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন ইশরাক হোসেন। ২০২০ সালের ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শেখ ফজলে নূর তাপসের কাছে হারের পর তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল তাঁকে বিজয়ী ঘোষণা করে এবং নির্বাচন কমিশন গেজেট জারি করে। কিন্তু তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে শপথ নিয়ে বিরোধ তৈরি হলে তা উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়ায়। মেয়রের দায়িত্ব নিশ্চিত করার দাবিতে ২০২৫ সালের মে মাসে তাঁর সমর্থকেরা নগর ভবনের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করলে নাগরিক সেবা মারাত্মক বিঘ্নিত হয়। সে সময় ইশরাক নিজেও সেখানে গিয়ে নিজ উদ্যোগে শপথ নিয়ে মেয়রের চেয়ারে বসার হুমকি দেন। আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন ও ভোটাধিকার রক্ষার যুক্তি দিলেও শেষ পর্যন্ত তিনি মেয়রের দায়িত্ব পাননি, উল্টো জনদুর্ভোগ সৃষ্টি ও অপরিণামদর্শিতার কারণে দলের ভেতরে-বাইরে সমালোচিত হন।

প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়ও তিনি বেশ কিছু অনভিপ্রেত ঘটনার মুখোমুখি হন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা’ অনুষ্ঠানে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ প্রধান অতিথি ছিলেন। সেখানে প্রদর্শিত প্রামাণ্যচিত্র নিয়ে আপত্তি তুলে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করতে চান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা। তখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার বদলে ক্ষুব্ধ হয়ে ইশরাক বলেন, ‘আপনারা কি নিজেদের জাহির করার জন্য এসেছেন? ডকুমেন্টারি দেখানোর জন্য এসেছেন? কী করছেন আপনারা? শহীদদের জন্য কী করেছেন? শহীদদের জন্য আপনারা কিছুই করেননি।’ এতে হট্টগোল বাড়লে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও এনসিপি নেতা আখতার হোসেন সবাইকে শান্ত করেন। এছাড়া গত জুলাইয়ে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির সঙ্গে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে তিন বাহিনীর প্রধানদের পাশাপাশি ইশরাকও সামরিক কায়দায় স্যালুট দিয়ে ট্রলের শিকার হন। তখন ফেসবুকে আত্মপক্ষ সমর্থন করে তিনি লিখেছিলেন, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কথা উঠলে শ্রদ্ধায় আমার হাত স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্যালুটে উঠে যায়। আমার হাত দিয়ে আমি বীর শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্যালুট দিয়েছি। হাত আমার, সম্মান জানিয়েছি সর্বজনশ্রদ্ধেয় বীরদের। দেশ আমার গণতান্ত্রিক; আমার ইচ্ছায় আমি স্যালুট দিয়েছি। যতবার ইচ্ছা হবে, যখন ইচ্ছা হবে, আমি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্যালুট জানাব।’

বিশ্লেষকদের মতে, গেন্ডারিয়ার মাদকবিরোধী অভিযানে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার মতো আচরণ এবং ক্ষমতা প্রদর্শনের অতিরিক্ত প্রবণতাই তাঁর জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বিষয়ে লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমেদ মন্তব্য করেন, ‘ইশরাকের কর্মকাণ্ড ছিল ক্ষমতার প্রদর্শন, অপরিপক্বতা, হামবড়া ভাবের একটা জ্বলন্ত উদাহরণ। তাঁর পরিণতিবোধের অভাবের কারণে সরকারের বদনাম হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেটা অন্যদের জন্য একটা কড়া বার্তা।’ তিনি সংসদ সদস্য পদে বহাল থাকলেও মন্ত্রিত্ব হারানোর এই ঘটনা দলীয় পরিচয় বা পারিবারিক প্রভাবের বাইরে গিয়ে শীর্ষ নেতৃত্বের জবাবদিহিতার নীতিকেই তুলে ধরছে। একই সাথে গেন্ডারিয়ার ওই অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা ও সার্বিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছ তদন্তের দাবিও উঠছে বিভিন্ন মহলে।

advertisement
advertisement

মরুর দেশের দুম্বা পালন করা হচ্ছে বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গায়, কতটা লাভজনক

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১১:০৯ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
মরুর দেশের দুম্বা পালন করা হচ্ছে বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গায়, কতটা লাভজনক

মরুর দেশের দুম্বা পালন করা হচ্ছে বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গায়, কতটা লাভজনক

অর্থনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গায় এবার মধ্যপ্রাচ্যের জনপ্রিয় মরুভূমির প্রাণী দুম্বা পালনের অভিনব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রচলিত গবাদিপশুর পাশাপাশি ভিন্নধর্মী এই প্রাণীটি লালন-পালন করে সফলতার মুখ দেখার চেষ্টা করছেন এ অঞ্চলের উদ্যোক্তারা। মূলত আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং খাদ্যাভ্যাস মিলে যাওয়ায় এই দেশীয় খামারগুলোতে দুম্বা বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে বেড়ে উঠছে।

উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, দুম্বা পালনের জন্য খুব বড় পরিসরে কোনো অবকাঠামোর প্রয়োজন হয় না এবং এর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বেশ ভালো। সাধারণ ছাগল বা ভেড়ার মতো করেই এদের পরিচর্যা করা সম্ভব, যা খামারিদের জন্য বাড়তি সুবিধা তৈরি করেছে। এর প্রধান খাদ্য হিসেবে ঘাস, খড় ও দানাদার খাবারের পাশাপাশি দেশীয় প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে, যা খরচ অনেকটাই কমিয়ে আনছে।

বর্তমানে বাজারে দুম্বার মাংসের প্রচুর চাহিদা থাকায় স্থানীয় পর্যায়ে এর অর্থনৈতিক সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কোরবানি ঈদ কিংবা বড় কোনো সামাজিক আয়োজনে এসব দুম্বার চড়া দাম পাওয়া যায়, যা খামারিদের মোটা অঙ্কের মুনাফা অর্জনে সাহায্য করছে। সাধারণ গরুর খামারের তুলনায় কম খরচে ও স্বল্প সময়ে দুম্বা বিক্রি করে বেশি লাভবান হওয়া সম্ভব হওয়ায় নতুন অনেকেই এই ব্যবসায় আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকেও দুম্বা পালনকারী উদ্যোক্তাদের সার্বিক পরামর্শ ও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে চুয়াডাঙ্গার গণ্ডি পেরিয়ে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও এই লাভজনক দুম্বা পালন ছড়িয়ে পড়বে বলে আশা প্রকাশ করছেন খামারি ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

সাইবার হামলায় অকেজো ইউরোপের সাত দেশের সুপারমার্কেট ফ্রিজ

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩ নভেম্বর ২০২৬, ৯:১০ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সাইবার হামলায় অকেজো ইউরোপের সাত দেশের সুপারমার্কেট ফ্রিজ

সাইবার হামলায় অকেজো ইউরোপের সাত দেশের সুপারমার্কেট ফ্রিজ

প্রযুক্তি ডেস্ক: ইউরোপের সাতটি দেশের অসংখ্য সুপারমার্কেটের হিমায়ন ব্যবস্থায় বড় ধরনের সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই আকস্মিক সাইবার আক্রমণের ফলে দোকানগুলোর বহু রেফ্রিজারেটর এবং ডিপ ফ্রিজ সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়ে। এর ফলে বিপণি বিতানগুলোতে সংরক্ষিত বিপুল পরিমাণ কাঁচা ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য নষ্ট হয়ে যাওয়ার তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর একাধিক সুপারমার্কেট চেইন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

আক্রান্ত হওয়া দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বেলজিয়াম, সুইডেন, আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড এবং লুক্সেমবার্গ। বেলজিয়াম ও লুক্সেমবার্গে ডেলহেইজের প্রায় চল্লিশটি শাখা এই হামলার শিকার হয়েছে। এছাড়া ফরাসি মালিকানাধীন সুপারমার্কেট ক্যারেফোরের বেলজিয়াম শাখা এবং কোলরুইট গ্রুপের পরিচালনাধীন স্পার স্টোরের বেশ কয়েকটি দোকানেও একই সমস্যা দেখা দিয়েছে। সুইডেনের আইকিয়া, আইসিএ এবং কুপের পাশাপাশি আয়ারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের বিভিন্ন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানও এই হামলার কবলে পড়েছে।

ফ্রিজ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান সাবকোবেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টেফান মোয়েলানস বেলগা সংবাদ সংস্থাকে জানান যে হ্যাকাররা সুনির্দিষ্ট কৌশলে ফ্রিজগুলোর ইভাপোরেটর ডিফ্রস্ট মোডে পাঠিয়ে দেয়। এর ফলে যন্ত্রগুলোর তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে শুরু করে এবং কিছু ক্ষেত্রে তা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে যায়। এর আগে কিছুদিন আগে ফ্রান্সেও একই কায়দায় সাইবার হামলা চালানো হয়েছিল। ইন্টারনেটের সঙ্গে সংযুক্ত থাকার সুবাদে দূর থেকেই এই ত্রুটি ঘটানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত যন্ত্রগুলো নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করতে কারিগরি দলগুলো রাতভর পরিশ্রম করেছে।

এই সাইবার হামলার পেছনে কারা জড়িত রয়েছে এবং কী উদ্দেশ্যে এটি করা হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট হয়নি। বেলজিয়াম, সুইডেন ও যুক্তরাজ্যের জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সংস্থাগুলো যৌথভাবে পুরো বিষয়টি গভীর পর্যবেক্ষণে রেখেছে। মার্কিন সামরিক ঘাঁটির হিমায়ন ব্যবস্থায় সম্প্রতি ঘটিত কোনো ত্রুটির সঙ্গে ইউরোপের এই ঘটনার যোগসূত্র রয়েছে কি না, তাতি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে বেলজিয়ামের একটি শাখা কর্তৃপক্ষ প্রায় এক লাখ ইউরো মূল্যের পণ্য নষ্ট হওয়ার কথা জানিয়েছে। তবে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেছে।

নিজ দলের কোন্দলেও চাঙা মার্কিন মুসলিম ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর সমর্থকেরা

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
নিজ দলের কোন্দলেও চাঙা মার্কিন মুসলিম ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর সমর্থকেরা

নিজ দলের কোন্দলেও চাঙা মার্কিন মুসলিম ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর সমর্থকেরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ডেমোক্র্যাট দলের ভেতরকার কোন্দল ও বিভক্তি নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান হ্যালি স্টিভেন্স নিজ দলের প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদকে সমর্থন না দিয়ে উল্টো বিরোধী দলের সিনেট প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। দলের একজন প্রভাবশালী নেতার এমন বিতর্কিত সিদ্ধান্ত সত্ত্বেও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আল-সাইয়েদের সমর্থকেরা দমে যাননি। বরং এই অভ্যন্তরীণ সংকটের কারণে তারা আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নেমেছেন এবং প্রচারণায় নতুন গতিশীলতা এসেছে।

সম্প্রতি মিশিগানের সাউথফিল্ডে আয়োজিত এক নির্বাচনি সমাবেশে আল-সাইয়েদের সমর্থকদের মধ্যে তীব্র উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ করা গেছে। সমাবেশে অংশ নেওয়া সাধারণ কর্মী ও সমর্থকেরা জানান, দলীয় নেতার এমন অবস্থান তাদের জন্য কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলেনি, বরং তাদের মনোবল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ডেমোক্র্যাট দলের সমর্থকেরা মনে করেন, দলের ভেতরের এই অনৈক্য উপেক্ষা করে আল-সাইয়েদের বিজয় নিশ্চিত করতে সবাইকে আরও জোরালোভাবে কাজ করতে হবে।

সমাবেশে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি মন্তব্য করেছেন যে, দলীয় প্রার্থীর বদলে রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত হ্যালি স্টিভেন্সের নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্যই ক্ষতিকর প্রমাণিত হতে পারে। তাদের মতে, এই ধরনের অবস্থান দলের ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে যা শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষেই বেশি কাজে লাগতে পারে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের এমন ঘটনাকে তারা একধরনের বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবেও অভিহিত করেছেন।

এদিকে দলীয় কোন্দলের মাঝেও আল-সাইয়েদের নির্বাচনি প্রচারশিবির দারুণ এক আর্থিক সাফল্যের মুখ দেখেছে। স্টিভেন্সের বিরোধিতার ঘোষণার পরপরই মাত্র একদিনের ব্যবধানে তাদের তহবিলে চব্বিশ লাখ ডলারের বেশি জমা হয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ঊনত্রিশ কোটি টাকা। প্রচারণা শুরু হওয়ার পর এটিই তাদের একদিনে সর্বোচ্চ ফান্ড সংগ্রহের রেকর্ড। এই অভাবনীয় সাফল্যকে সমর্থকেরা নিছক কাকতালীয় বলতে নারাজ, বরং একে তারা দলীয় ঐক্যের বড় প্রমাণ হিসেবে দেখছেন।