খুঁজুন
advertisement
advertisement
শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ২১ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটি নাম কর্তন: ভারতের নির্বাচন কমিশন ঘিরে ক্ষোভ ও গণতন্ত্র সংকটের অভিযোগ

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩ নভেম্বর ২০২৬, ৫:৩৫ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটি নাম কর্তন: ভারতের নির্বাচন কমিশন ঘিরে ক্ষোভ ও গণতন্ত্র সংকটের অভিযোগ

বিক্ষোভ ঘিরে নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। ১০ অক্টোবর ২০২৬, নয়াদিল্লি

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে সম্প্রতি নয়াদিল্লির রাজপথে হাজার হাজার নাগরিক বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন, যার ওপর পুলিশ কঠোর দমনপীড়ন চালায়। আন্দোলনকারীদের প্রধান অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের বিতর্কিত ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ বা এসআইআর প্রকল্পের আওতায় দেশের ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটিরও বেশি মানুষের নাম মুছে ফেলা হয়েছে। এর আগে সর্বশেষ ২০০৩-০৪ সালে এ ধরনের নিবিড় কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছিল। তবে এবারের উদ্যোগের ব্যাপ্তি, বিধিবহির্ভূত ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বেচ্ছাচারিতার ফলে মুসলমান, নারী, অভিবাসী এবং পিছিয়ে পড়া বহু প্রান্তিক জনগোষ্ঠী তাদের ভোটাধিকার হারিয়েছেন। একই সঙ্গে বিহার ও পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নির্বাচনী বিজয়ের যথার্থতা নিয়েও গুরুতর সংশয় তৈরি হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন শিবির এই এসআইআর উদ্যোগকে ‘শুদ্ধীকরণ’ হিসেবে আখ্যায়িত করলেও জাতিভেদপ্রধান একটি সমাজে এ ধরনের শব্দের প্রয়োগকে গভীর উদ্বেগের চোখে দেখা হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে মূলত রাজনৈতিক অধিকারপ্রাপ্ত এবং অধিকারহীন—নাগরিকদের এমন দুটি স্তরে বিভক্ত করা হচ্ছে। এতে অধিকারবঞ্চিত নাগরিকরা দার্শনিক জর্জিও আগামবেনের তত্ত্বানুযায়ী স্রেফ জৈবিক অস্তিত্ব টিকে থাকা মানুষে পরিণত হচ্ছেন, যাঁদের রাজনৈতিক কোনো সামর্থ্য থাকে না। শুরুতে নাগরিক শনাক্তকরণে অতিরিক্ত মানুষ যুক্ত হওয়ার অজুহাতে কমিশন আধার কার্ড গ্রহণে অনীহা দেখায়। পশ্চিমবঙ্গে ‘যৌক্তিক অসংগতি’র অজুহাত দেখিয়ে বাদ দেওয়া ৯০ লাখ নামের মধ্যে ২৭ লাখই তালিকা থেকে মুছে দেওয়া হয়, যার প্রায় ৬৫ শতাংশই সংখ্যালঘু মুসলমান সম্প্রদায়ের। অথচ এসব সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জমা পড়া ৩৮ লাখের বেশি অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য খোলা হয়েছে মাত্র ১৯টি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল, যার কারণে বাদ পড়াদের প্রতিকার পাওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভোটারদের ওপর শিক্ষাগত সনদ, ভূমির দলিল, পুরোনো নথিপত্র এবং পারিবারিক বংশলতিকা প্রদর্শনের মতো কঠোর শর্ত চাপিয়ে দেওয়ায় দরিদ্র, নিরক্ষর ও ভূমিহীন জনগোষ্ঠী চরম বিপাকে পড়েছেন। এই প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ‘ইআরওনেট’ প্রযুক্তি পুরোনো তালিকার সঙ্গে বর্তমান তথ্যের অমিল খুঁজে বের করছে। তবে এই প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবহারের নিরপেক্ষতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন রয়ে গেছে। বিশেষ করে বিয়ের পর নাম ও ঠিকানা পরিবর্তনের কারণে এবং পুরোনো নথির অভাবে নারীরা ভোটাধিকার সুরক্ষায় সর্বাধিক প্রতিকূলতার মুখে পড়ছেন।

অনুরূপভাবে হায়দরাবাদে অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত, মৃত ও দ্বৈত—এই চার শ্রেণিতে ১৯ লাখ ৪০ হাজার নাম বাদ দেওয়ার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছিল। শহরের মোট জনগোষ্ঠীর ৩০ শতাংশ মুসলমান হওয়া সত্ত্বেও চিহ্নিত ভোটারদের মধ্যে ৪০ দশমিক ৭ শতাংশই ছিলেন এই সম্প্রদায়ের। এমনকি পুরোনো হায়দরাবাদের কয়েকটি নির্বাচনী এলাকায় বাদ দেওয়ার তালিকায় থাকা নামের প্রায় ৮০ শতাংশই ছিল মুসলমানদের। দিল্লি ও পার্শ্ববর্তী এলাকার খসড়া তালিকা থেকেও পূর্ববর্তী ভোটারদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ উধাও হয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে গত ৮ অক্টোবর বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে কনটেন্ট ক্রিয়েটর ধ্রুব রাঠী, অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ প্রকাশ রাজ এবং সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সমাবেশ করেন।

নির্বাচনী রাজনীতিতেও এই প্রক্রিয়া সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখছে। মুসলিম ও বিরোধী সমর্থকদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ার ফলে বিজেপির মূল প্রতিদ্বন্দ্বীদের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ছে। ২০২৫ সালের নির্বাচনের প্রাক্কালে ৬৮ লাখ নাম কর্তন এবং ২১ লাখ নতুন ভোটার যুক্ত হওয়ার ফলে বিজেপি জোটের ব্যবধান প্রায় ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। একইভাবে ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের বিশ্লেষণে দেখা যায়, যেসব জেলায় বিজেপির রাজনৈতিক প্রভাব ঐতিহাসিকভাবে কম ছিল, সেখানে বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা ক্ষেত্রবিশেষে দলের জয়ের ব্যবধানকেও ছাড়িয়ে গেছে।

এই ধারাটি ‘বিশুদ্ধ হিন্দু’ রাষ্ট্র বিনির্মাণের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষাকে শক্তিশালী করছে, যেখানে ‘রোহিঙ্গা’, ‘অনুপ্রবেশকারী’ কিংবা ‘বাংলাদেশি’ অভিধা ব্যবহার করে মুসলমানদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। এমনকি বিহার ও পশ্চিমবঙ্গে তালিকা থেকে ছাঁটাই হওয়া নাগরিকদের সরকারি গণবণ্টনব্যবস্থার সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার উদ্যোগের অভিযোগ উঠেছে। এর আগে আসামে সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে পরিচালিত এনআরসি প্রক্রিয়ায় বাদ পড়েছিলেন ১৯ লাখ মানুষ, যাঁদের সিংহভাগই ছিলেন বাংলাভাষী। এছাড়া ২০১৯ সালের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) এবং সম্প্রতি গঠিত জনসংখ্যা পরিবর্তনবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের কমিটিও তথাকথিত ‘অবৈধ অনুপ্রবেশ’ ও ‘অস্বাভাবিক জনমিতিক পরিবর্তন’ মোকাবিলার নামে একই রূপরেখা বাস্তবায়ন করছে। জার্মানির গ্যোটিঙেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আলেকজান্ডার ফন হুমবোল্টের জ্যেষ্ঠ গবেষণা ফেলো তানভীর ফজল আল-জাজিরায় প্রকাশিত নিবন্ধে মন্তব্য করেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের ছদ্মবেশে বিপুল জনগোষ্ঠীকে অধিকারহীন করার এই তৎপরতা ভারতীয় গণতন্ত্রকে সুসংহত করার বদলে ভেতর থেকেই নিঃশেষ করে দিচ্ছে।

advertisement
advertisement

মরুর দেশের দুম্বা পালন করা হচ্ছে বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গায়, কতটা লাভজনক

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৫ নভেম্বর ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
মরুর দেশের দুম্বা পালন করা হচ্ছে বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গায়, কতটা লাভজনক

মরুর দেশের দুম্বা পালন করা হচ্ছে বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গায়, কতটা লাভজনক

অর্থনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গায় এবার মধ্যপ্রাচ্যের জনপ্রিয় মরুভূমির প্রাণী দুম্বা পালনের অভিনব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রচলিত গবাদিপশুর পাশাপাশি ভিন্নধর্মী এই প্রাণীটি লালন-পালন করে সফলতার মুখ দেখার চেষ্টা করছেন এ অঞ্চলের উদ্যোক্তারা। মূলত আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং খাদ্যাভ্যাস মিলে যাওয়ায় এই দেশীয় খামারগুলোতে দুম্বা বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে বেড়ে উঠছে।

উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, দুম্বা পালনের জন্য খুব বড় পরিসরে কোনো অবকাঠামোর প্রয়োজন হয় না এবং এর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বেশ ভালো। সাধারণ ছাগল বা ভেড়ার মতো করেই এদের পরিচর্যা করা সম্ভব, যা খামারিদের জন্য বাড়তি সুবিধা তৈরি করেছে। এর প্রধান খাদ্য হিসেবে ঘাস, খড় ও দানাদার খাবারের পাশাপাশি দেশীয় প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে, যা খরচ অনেকটাই কমিয়ে আনছে।

বর্তমানে বাজারে দুম্বার মাংসের প্রচুর চাহিদা থাকায় স্থানীয় পর্যায়ে এর অর্থনৈতিক সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কোরবানি ঈদ কিংবা বড় কোনো সামাজিক আয়োজনে এসব দুম্বার চড়া দাম পাওয়া যায়, যা খামারিদের মোটা অঙ্কের মুনাফা অর্জনে সাহায্য করছে। সাধারণ গরুর খামারের তুলনায় কম খরচে ও স্বল্প সময়ে দুম্বা বিক্রি করে বেশি লাভবান হওয়া সম্ভব হওয়ায় নতুন অনেকেই এই ব্যবসায় আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকেও দুম্বা পালনকারী উদ্যোক্তাদের সার্বিক পরামর্শ ও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে চুয়াডাঙ্গার গণ্ডি পেরিয়ে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও এই লাভজনক দুম্বা পালন ছড়িয়ে পড়বে বলে আশা প্রকাশ করছেন খামারি ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

সাইবার হামলায় অকেজো ইউরোপের সাত দেশের সুপারমার্কেট ফ্রিজ

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৫ নভেম্বর ২০২৬, ৭:১০ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সাইবার হামলায় অকেজো ইউরোপের সাত দেশের সুপারমার্কেট ফ্রিজ

সাইবার হামলায় অকেজো ইউরোপের সাত দেশের সুপারমার্কেট ফ্রিজ

প্রযুক্তি ডেস্ক: ইউরোপের সাতটি দেশের অসংখ্য সুপারমার্কেটের হিমায়ন ব্যবস্থায় বড় ধরনের সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই আকস্মিক সাইবার আক্রমণের ফলে দোকানগুলোর বহু রেফ্রিজারেটর এবং ডিপ ফ্রিজ সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়ে। এর ফলে বিপণি বিতানগুলোতে সংরক্ষিত বিপুল পরিমাণ কাঁচা ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য নষ্ট হয়ে যাওয়ার তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর একাধিক সুপারমার্কেট চেইন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

আক্রান্ত হওয়া দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বেলজিয়াম, সুইডেন, আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড এবং লুক্সেমবার্গ। বেলজিয়াম ও লুক্সেমবার্গে ডেলহেইজের প্রায় চল্লিশটি শাখা এই হামলার শিকার হয়েছে। এছাড়া ফরাসি মালিকানাধীন সুপারমার্কেট ক্যারেফোরের বেলজিয়াম শাখা এবং কোলরুইট গ্রুপের পরিচালনাধীন স্পার স্টোরের বেশ কয়েকটি দোকানেও একই সমস্যা দেখা দিয়েছে। সুইডেনের আইকিয়া, আইসিএ এবং কুপের পাশাপাশি আয়ারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের বিভিন্ন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানও এই হামলার কবলে পড়েছে।

ফ্রিজ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান সাবকোবেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টেফান মোয়েলানস বেলগা সংবাদ সংস্থাকে জানান যে হ্যাকাররা সুনির্দিষ্ট কৌশলে ফ্রিজগুলোর ইভাপোরেটর ডিফ্রস্ট মোডে পাঠিয়ে দেয়। এর ফলে যন্ত্রগুলোর তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে শুরু করে এবং কিছু ক্ষেত্রে তা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে যায়। এর আগে কিছুদিন আগে ফ্রান্সেও একই কায়দায় সাইবার হামলা চালানো হয়েছিল। ইন্টারনেটের সঙ্গে সংযুক্ত থাকার সুবাদে দূর থেকেই এই ত্রুটি ঘটানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত যন্ত্রগুলো নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করতে কারিগরি দলগুলো রাতভর পরিশ্রম করেছে।

এই সাইবার হামলার পেছনে কারা জড়িত রয়েছে এবং কী উদ্দেশ্যে এটি করা হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট হয়নি। বেলজিয়াম, সুইডেন ও যুক্তরাজ্যের জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সংস্থাগুলো যৌথভাবে পুরো বিষয়টি গভীর পর্যবেক্ষণে রেখেছে। মার্কিন সামরিক ঘাঁটির হিমায়ন ব্যবস্থায় সম্প্রতি ঘটিত কোনো ত্রুটির সঙ্গে ইউরোপের এই ঘটনার যোগসূত্র রয়েছে কি না, তাতি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে বেলজিয়ামের একটি শাখা কর্তৃপক্ষ প্রায় এক লাখ ইউরো মূল্যের পণ্য নষ্ট হওয়ার কথা জানিয়েছে। তবে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেছে।

নিজ দলের কোন্দলেও চাঙা মার্কিন মুসলিম ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর সমর্থকেরা

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৫ নভেম্বর ২০২৬, ৭:০৯ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
নিজ দলের কোন্দলেও চাঙা মার্কিন মুসলিম ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর সমর্থকেরা

নিজ দলের কোন্দলেও চাঙা মার্কিন মুসলিম ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর সমর্থকেরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ডেমোক্র্যাট দলের ভেতরকার কোন্দল ও বিভক্তি নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান হ্যালি স্টিভেন্স নিজ দলের প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদকে সমর্থন না দিয়ে উল্টো বিরোধী দলের সিনেট প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। দলের একজন প্রভাবশালী নেতার এমন বিতর্কিত সিদ্ধান্ত সত্ত্বেও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আল-সাইয়েদের সমর্থকেরা দমে যাননি। বরং এই অভ্যন্তরীণ সংকটের কারণে তারা আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নেমেছেন এবং প্রচারণায় নতুন গতিশীলতা এসেছে।

সম্প্রতি মিশিগানের সাউথফিল্ডে আয়োজিত এক নির্বাচনি সমাবেশে আল-সাইয়েদের সমর্থকদের মধ্যে তীব্র উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ করা গেছে। সমাবেশে অংশ নেওয়া সাধারণ কর্মী ও সমর্থকেরা জানান, দলীয় নেতার এমন অবস্থান তাদের জন্য কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলেনি, বরং তাদের মনোবল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ডেমোক্র্যাট দলের সমর্থকেরা মনে করেন, দলের ভেতরের এই অনৈক্য উপেক্ষা করে আল-সাইয়েদের বিজয় নিশ্চিত করতে সবাইকে আরও জোরালোভাবে কাজ করতে হবে।

সমাবেশে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি মন্তব্য করেছেন যে, দলীয় প্রার্থীর বদলে রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত হ্যালি স্টিভেন্সের নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্যই ক্ষতিকর প্রমাণিত হতে পারে। তাদের মতে, এই ধরনের অবস্থান দলের ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে যা শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষেই বেশি কাজে লাগতে পারে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের এমন ঘটনাকে তারা একধরনের বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবেও অভিহিত করেছেন।

এদিকে দলীয় কোন্দলের মাঝেও আল-সাইয়েদের নির্বাচনি প্রচারশিবির দারুণ এক আর্থিক সাফল্যের মুখ দেখেছে। স্টিভেন্সের বিরোধিতার ঘোষণার পরপরই মাত্র একদিনের ব্যবধানে তাদের তহবিলে চব্বিশ লাখ ডলারের বেশি জমা হয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ঊনত্রিশ কোটি টাকা। প্রচারণা শুরু হওয়ার পর এটিই তাদের একদিনে সর্বোচ্চ ফান্ড সংগ্রহের রেকর্ড। এই অভাবনীয় সাফল্যকে সমর্থকেরা নিছক কাকতালীয় বলতে নারাজ, বরং একে তারা দলীয় ঐক্যের বড় প্রমাণ হিসেবে দেখছেন।