খুঁজুন
advertisement
advertisement
বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

‘আমার কাছে তিনি আজীবন সুপারহিরো হয়ে থাকবেন’: দুর্গাপুরে গুলিতে নিহত সাংবাদিক আলিফের স্ত্রীর আহাজারি

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭:০৫ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
‘আমার কাছে তিনি আজীবন সুপারহিরো হয়ে থাকবেন’: দুর্গাপুরে গুলিতে নিহত সাংবাদিক আলিফের স্ত্রীর আহাজারি

দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা। শুক্রবার নেত্রকোনোর দুর্গাপুরের তেলনজিয়ায়

‘আমার স্বামী আমার কাছে ছিলেন এক সুপারম্যান। অন্যরা তাঁকে কীভাবে দেখত জানি না, কিন্তু তিনি সব সময়ই আমার কাছে সুপারহিরো হয়ে থাকবেন। মৃত্যুর আগপর্যন্ত তাঁর স্মৃতি আমি ভুলতে পারব না।’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে এভাবেই নিজের অনুভূতি প্রকাশ করছিলেন আনন্দিতা সাংমা। গত বৃহস্পতিবার রাত সোয়া আটটার দিকে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার তেলনজিয়া এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে প্রাণ হারান তাঁর স্বামী সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির। তিনি বেসরকারি আইপি টেলিভিশন ‘রূপসী বাংলা’র নেত্রকোনা প্রতিনিধি এবং ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামের ফেসবুক পেজের পরিচালক ছিলেন, যেখানে তিনি নানা অপরাধ ও অনিয়মের তথ্য এবং ভিডিও তুলে ধরতেন। সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেওয়া আলিফ কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের সুনই গ্রামের মহব্বত আলী ফকিরের সন্তান। তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে বেড়ে ওঠা আলিফ দুর্গাপুরের গারো সম্প্রদায়ের নারী আনন্দিতা সাংমাকে বিয়ে করে তেলনজিয়ায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করছিলেন, যদিও নিজ গ্রামেও তাঁর নিয়মিত যাতায়াত ছিল।

পরিবারের সদস্যরা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে শ্বশুরবাড়ি থেকে প্রায় ২০ গজ দূরে একটি চায়ের দোকানের সামনে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় আলিফকে। চাচাশ্বশুর বিশু সাংমা বলেন, বাড়ির বাইরে বসে গল্প করার সময় বিকট শব্দ শুনে এগিয়ে গিয়ে তাঁরা আলিফকে গুলিবিদ্ধ দেখেন। তিনি জানান, দুজন গুলি ছুড়ছিল এবং আরও দুজন পাশে দাঁড়িয়ে পাহারা দিচ্ছিল; আশপাশের লোকজন আসার আগেই আততায়ীর দল ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। নিহতের বড় ভাই শহীদ ইসলাম ফকিরের দাবি, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাংবাদিকতা করার কারণেই তাঁর ভাইয়ের বহু শত্রু তৈরি হয়েছিল। তিনি এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। লুৎফুজ্জামানের ফুফুশাশুড়ি রুলি রেমা জানান, তাঁদের জামাতা অত্যন্ত অমায়িক মানুষ ছিলেন। পুরো গারো সম্প্রদায় তাঁকে ভালোবাসত এবং তিনিও তাঁদের ভীষণ আপন করে নিয়েছিলেন।

তেলনজিয়ার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, চায়ের দোকানের সামনে জমে থাকা রক্ত তখনো শুকায়নি। সেখান থেকে সামান্য দূরে টিনের ঘরের সামনে দুই শিশুসন্তানকে কোলে নিয়ে বিলাপ করছিলেন আনন্দিতা সাংমা। তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন মা শিলা রাংসা এবং দুই ফুফু নিরালা রেমা ও রুলি রেমা। স্মৃতিকাতর আনন্দিতা বলেন, বিয়ের পর থেকে একটি রাতও আলিফ তাঁকে ছাড়া থাকতে পারতেন না এবং নিজের হাতে তাঁকে খাইয়ে দিতেন। তাঁর সহযোগিতাতেই তিনি নার্সিং সম্পন্ন করেন এবং আলিফ তাঁর চাকরির চেষ্টাও করছিলেন। আনন্দিতা জানান, ঢাকা বা সিলেটে চাকরি হলে সেখানে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁদের। এখন দুই ছোট সন্তানকে নিয়ে তিনি কীভাবে বাঁচবেন, সেই শঙ্কায় ভেঙে পড়ে খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও ফাঁসি চান তিনি।

মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় থাকা শিলা রাংসা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, দুর্গাপুরে এর আগে সোমেশ্বরী নদীর ঘাটে মজিবুর হত্যা, দুর্গাপুর বাজারে এক পুলিশ কর্মকর্তা হত্যা এবং কুল্লাগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আদিবাসী নেতা সুব্রত সাংমা হত্যাকাণ্ডের মতো কোনো ঘটনারই বিচার হয়নি। এবার তাঁর মেয়েজামাইকে নির্মমভাবে হত্যা করায় তিনি বিচারের আশা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। স্বজনেরা আরও জানান, গত বছরের ১০ নভেম্বরও সোমেশ্বরী নদীর তেরিবাজার ঘাট এলাকায় আলিফকে কুপিয়ে মারাত্মক আহত করেছিল দুর্বৃত্তরা। সে সময় তাঁর এক সহকর্মী এগিয়ে এলে তাঁকেও অস্ত্রের মুখে ধাওয়া করা হয়। ওই ঘটনায় আলিফের করা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া দুই এজাহারভুক্ত আসামি বর্তমানে জামিনে বাইরে রয়েছে।

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আলিফের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে দুর্গাপুর থানায় অজ্ঞাতনামা সাত থেকে আটজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ খান শনিবার সকাল সোয়া নয়টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এর আগে শুক্রবার বিকেলে নেত্রকোনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে আলিফের ময়নাতদন্ত শেষে কলমাকান্দার সুনই গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক শ্রদ্ধ্যানন্দ নাথ জানান, আলিফের শরীরে মোট ছয়টি গুলির চিহ্ন রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি বুকে (দুটি ভেদ করে চলে যায়, একটি পিঠে আটকে ছিল), একটি কপালের ডান পাশ দিয়ে ঢুকে মাথার পেছন দিয়ে বেরিয়ে যায় এবং বাকি দুটির একটি মাথার তালুর চামড়া ও অন্যটি ডান কাঁধের চামড়া ভেদ করে। ক্ষতচিহ্ন দেখে তাঁর প্রাথমিক ধারণা, খুব কাছ থেকে সামনের দিক থেকে পিস্তল দিয়ে এই গুলিগুলো চালানো হয়েছে।

advertisement
advertisement

মরুর দেশের দুম্বা পালন করা হচ্ছে বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গায়, কতটা লাভজনক

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩ নভেম্বর ২০২৬, ২:৩৮ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
মরুর দেশের দুম্বা পালন করা হচ্ছে বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গায়, কতটা লাভজনক

মরুর দেশের দুম্বা পালন করা হচ্ছে বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গায়, কতটা লাভজনক

অর্থনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গায় এবার মধ্যপ্রাচ্যের জনপ্রিয় মরুভূমির প্রাণী দুম্বা পালনের অভিনব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রচলিত গবাদিপশুর পাশাপাশি ভিন্নধর্মী এই প্রাণীটি লালন-পালন করে সফলতার মুখ দেখার চেষ্টা করছেন এ অঞ্চলের উদ্যোক্তারা। মূলত আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং খাদ্যাভ্যাস মিলে যাওয়ায় এই দেশীয় খামারগুলোতে দুম্বা বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে বেড়ে উঠছে।

উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, দুম্বা পালনের জন্য খুব বড় পরিসরে কোনো অবকাঠামোর প্রয়োজন হয় না এবং এর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বেশ ভালো। সাধারণ ছাগল বা ভেড়ার মতো করেই এদের পরিচর্যা করা সম্ভব, যা খামারিদের জন্য বাড়তি সুবিধা তৈরি করেছে। এর প্রধান খাদ্য হিসেবে ঘাস, খড় ও দানাদার খাবারের পাশাপাশি দেশীয় প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে, যা খরচ অনেকটাই কমিয়ে আনছে।

বর্তমানে বাজারে দুম্বার মাংসের প্রচুর চাহিদা থাকায় স্থানীয় পর্যায়ে এর অর্থনৈতিক সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কোরবানি ঈদ কিংবা বড় কোনো সামাজিক আয়োজনে এসব দুম্বার চড়া দাম পাওয়া যায়, যা খামারিদের মোটা অঙ্কের মুনাফা অর্জনে সাহায্য করছে। সাধারণ গরুর খামারের তুলনায় কম খরচে ও স্বল্প সময়ে দুম্বা বিক্রি করে বেশি লাভবান হওয়া সম্ভব হওয়ায় নতুন অনেকেই এই ব্যবসায় আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকেও দুম্বা পালনকারী উদ্যোক্তাদের সার্বিক পরামর্শ ও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে চুয়াডাঙ্গার গণ্ডি পেরিয়ে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও এই লাভজনক দুম্বা পালন ছড়িয়ে পড়বে বলে আশা প্রকাশ করছেন খামারি ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

সাইবার হামলায় অকেজো ইউরোপের সাত দেশের সুপারমার্কেট ফ্রিজ

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১:৩১ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সাইবার হামলায় অকেজো ইউরোপের সাত দেশের সুপারমার্কেট ফ্রিজ

সাইবার হামলায় অকেজো ইউরোপের সাত দেশের সুপারমার্কেট ফ্রিজ

প্রযুক্তি ডেস্ক: ইউরোপের সাতটি দেশের অসংখ্য সুপারমার্কেটের হিমায়ন ব্যবস্থায় বড় ধরনের সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই আকস্মিক সাইবার আক্রমণের ফলে দোকানগুলোর বহু রেফ্রিজারেটর এবং ডিপ ফ্রিজ সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়ে। এর ফলে বিপণি বিতানগুলোতে সংরক্ষিত বিপুল পরিমাণ কাঁচা ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য নষ্ট হয়ে যাওয়ার তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর একাধিক সুপারমার্কেট চেইন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

আক্রান্ত হওয়া দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বেলজিয়াম, সুইডেন, আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড এবং লুক্সেমবার্গ। বেলজিয়াম ও লুক্সেমবার্গে ডেলহেইজের প্রায় চল্লিশটি শাখা এই হামলার শিকার হয়েছে। এছাড়া ফরাসি মালিকানাধীন সুপারমার্কেট ক্যারেফোরের বেলজিয়াম শাখা এবং কোলরুইট গ্রুপের পরিচালনাধীন স্পার স্টোরের বেশ কয়েকটি দোকানেও একই সমস্যা দেখা দিয়েছে। সুইডেনের আইকিয়া, আইসিএ এবং কুপের পাশাপাশি আয়ারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের বিভিন্ন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানও এই হামলার কবলে পড়েছে।

ফ্রিজ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান সাবকোবেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টেফান মোয়েলানস বেলগা সংবাদ সংস্থাকে জানান যে হ্যাকাররা সুনির্দিষ্ট কৌশলে ফ্রিজগুলোর ইভাপোরেটর ডিফ্রস্ট মোডে পাঠিয়ে দেয়। এর ফলে যন্ত্রগুলোর তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে শুরু করে এবং কিছু ক্ষেত্রে তা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে যায়। এর আগে কিছুদিন আগে ফ্রান্সেও একই কায়দায় সাইবার হামলা চালানো হয়েছিল। ইন্টারনেটের সঙ্গে সংযুক্ত থাকার সুবাদে দূর থেকেই এই ত্রুটি ঘটানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত যন্ত্রগুলো নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করতে কারিগরি দলগুলো রাতভর পরিশ্রম করেছে।

এই সাইবার হামলার পেছনে কারা জড়িত রয়েছে এবং কী উদ্দেশ্যে এটি করা হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট হয়নি। বেলজিয়াম, সুইডেন ও যুক্তরাজ্যের জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সংস্থাগুলো যৌথভাবে পুরো বিষয়টি গভীর পর্যবেক্ষণে রেখেছে। মার্কিন সামরিক ঘাঁটির হিমায়ন ব্যবস্থায় সম্প্রতি ঘটিত কোনো ত্রুটির সঙ্গে ইউরোপের এই ঘটনার যোগসূত্র রয়েছে কি না, তাতি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে বেলজিয়ামের একটি শাখা কর্তৃপক্ষ প্রায় এক লাখ ইউরো মূল্যের পণ্য নষ্ট হওয়ার কথা জানিয়েছে। তবে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেছে।

নিজ দলের কোন্দলেও চাঙা মার্কিন মুসলিম ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর সমর্থকেরা

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩ নভেম্বর ২০২৬, ৪:৫৮ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
নিজ দলের কোন্দলেও চাঙা মার্কিন মুসলিম ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর সমর্থকেরা

নিজ দলের কোন্দলেও চাঙা মার্কিন মুসলিম ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর সমর্থকেরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ডেমোক্র্যাট দলের ভেতরকার কোন্দল ও বিভক্তি নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান হ্যালি স্টিভেন্স নিজ দলের প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদকে সমর্থন না দিয়ে উল্টো বিরোধী দলের সিনেট প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। দলের একজন প্রভাবশালী নেতার এমন বিতর্কিত সিদ্ধান্ত সত্ত্বেও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আল-সাইয়েদের সমর্থকেরা দমে যাননি। বরং এই অভ্যন্তরীণ সংকটের কারণে তারা আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নেমেছেন এবং প্রচারণায় নতুন গতিশীলতা এসেছে।

সম্প্রতি মিশিগানের সাউথফিল্ডে আয়োজিত এক নির্বাচনি সমাবেশে আল-সাইয়েদের সমর্থকদের মধ্যে তীব্র উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ করা গেছে। সমাবেশে অংশ নেওয়া সাধারণ কর্মী ও সমর্থকেরা জানান, দলীয় নেতার এমন অবস্থান তাদের জন্য কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলেনি, বরং তাদের মনোবল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ডেমোক্র্যাট দলের সমর্থকেরা মনে করেন, দলের ভেতরের এই অনৈক্য উপেক্ষা করে আল-সাইয়েদের বিজয় নিশ্চিত করতে সবাইকে আরও জোরালোভাবে কাজ করতে হবে।

সমাবেশে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি মন্তব্য করেছেন যে, দলীয় প্রার্থীর বদলে রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত হ্যালি স্টিভেন্সের নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্যই ক্ষতিকর প্রমাণিত হতে পারে। তাদের মতে, এই ধরনের অবস্থান দলের ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে যা শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষেই বেশি কাজে লাগতে পারে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের এমন ঘটনাকে তারা একধরনের বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবেও অভিহিত করেছেন।

এদিকে দলীয় কোন্দলের মাঝেও আল-সাইয়েদের নির্বাচনি প্রচারশিবির দারুণ এক আর্থিক সাফল্যের মুখ দেখেছে। স্টিভেন্সের বিরোধিতার ঘোষণার পরপরই মাত্র একদিনের ব্যবধানে তাদের তহবিলে চব্বিশ লাখ ডলারের বেশি জমা হয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ঊনত্রিশ কোটি টাকা। প্রচারণা শুরু হওয়ার পর এটিই তাদের একদিনে সর্বোচ্চ ফান্ড সংগ্রহের রেকর্ড। এই অভাবনীয় সাফল্যকে সমর্থকেরা নিছক কাকতালীয় বলতে নারাজ, বরং একে তারা দলীয় ঐক্যের বড় প্রমাণ হিসেবে দেখছেন।