খুঁজুন
advertisement
advertisement
শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ২১ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

সিয়াং মেগা জলবিদ্যুৎ প্রকল্প: অরুণাচলে আদিবাসীদের তীব্র অসন্তোষ ও দিল্লি-বেইজিং সংঘাতের সমীকরণ

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৩৪ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সিয়াং মেগা জলবিদ্যুৎ প্রকল্প: অরুণাচলে আদিবাসীদের তীব্র অসন্তোষ ও দিল্লি-বেইজিং সংঘাতের সমীকরণ

জলবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ ঘিরে অরুণাচল প্রদেশের পরিস্থিতি নিয়ে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট।

ভারতের অরুণাচল প্রদেশের সিয়াং উপত্যকার উগেং-কমকার এলাকায় মাসখানেক আগে বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তা সদস্যের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। মূলত প্রস্তাবিত ১১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ‘সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রজেক্ট’-এর সম্ভাব্যতা সমীক্ষার পূর্ববর্তী ড্রিলিং ও জরিপ কাজের সুরক্ষার্থেই এই পদক্ষেপ নেয় প্রশাসন। তবে ব্যাপক প্রস্তুতি ও কড়া নজরদারি সত্ত্বেও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অসন্তোষ প্রশমিত হয়নি। বিরোধিতার জেরে গত ১৪ অক্টোবর ২০১৪ সালের রাজ্য বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইনের আওতায় চার আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়। এই গ্রেফতারের প্রতিবাদে আপার সিয়াংয়ের গেকু অঞ্চলে নতুন করে রাজপথে নামে জনতা। একই সঙ্গে সিয়াং আদিবাসী কৃষক ফোরামের (এসআইএফএফ) যুব শাখা সরকারের সঙ্গে যে কোনো ধরনের আলোচনা বর্জনের ডাক দিয়েছে।

হিমালয়ের কৈলাস পর্বতের অদূরে মানস সরোবরের জিমা ইয়ংজং হিমবাহ থেকে জন্ম নেওয়া খরস্রোতা এই নদী তিব্বতে ইয়ারলুং সাংপো নামে পরিচিত। অরুণাচলে প্রবেশের পর এর নাম হয় সিয়াং, যা আসাম হয়ে বাংলাদেশে ব্রহ্মপুত্র নদ হিসেবে সাগরে মিশেছে। স্থানীয় আদি জনগোষ্ঠীর আশঙ্কা, মেগা বাঁধটি রূপায়িত হলে তাদের আদিপুরুষের ভিটেমাটি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে এবং জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খানডুর সফরের সময় স্থানীয় বিধায়কের বাসভবনে হামলা ও পুলিশের গাড়ি পোড়ানোর ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে ৪ অক্টোবরের সংঘর্ষে অগ্নিসংযোগ ও যৌথবাহিনীর মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ওঠে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ৮ অক্টোবর অরুণাচলের ভূমিপুত্র তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরণ রিজেজু প্রবীণ আদি নেতাদের সাথে আলোচনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘একসঙ্গে বসে আলোচনা করলে সবকিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে। আমাদের কথা বলতে হবে। সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’

নদীকেন্দ্রিক এই সংঘাতের রাজনৈতিক ইতিহাস বেশ বৈচিত্র্যময়। ২০১০ সালের আগস্টে রাজ্যে কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকাকালে বাঁধবিরোধী জোট সিয়াং পিপলস ফোরামের তৎকালীন নেতা ওজিং তাসিংয়ের ইটানগরের বাসভবনে তল্লাশি চালানো হয়েছিল। তাসিং পরে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী জয়রাম রমেশের কাছে প্রকল্পটি বাতিলের দাবি জানান। গুয়াহাটিতে শুনানির পর রমেশ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে লেখা চিঠিতে স্বীকার করেন যে বাঁধের কৌশলগত যুক্তি স্থানীয়দের আশ্বস্ত করতে পারছে না। সেখানে তিনি বিভিন্ন এনজিওর বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, চীন ও ভারতের রেষারেষিতে অরুণাচলকে দাবার ঘুঁটি বানানো উচিত হবে না। এমনকি ২০১২ সালের মে মাসে বিজেপির তৎকালীন রাজ্যসভার সাংসদ তরুণ বিজয়ও প্রশ্ন তুলেছিলেন, আন্দোলনকারীদের চীনা মদদপুষ্ট আখ্যা না দিয়ে তাদের কাছে দায়িত্বশীল কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি পাঠানো উচিত। ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে পাসিঘাটে গিয়ে নরেন্দ্র মোদিও বড় বাঁধের ঝুঁকি মেনে নিয়ে পরিবেশবান্ধব ক্ষুদ্র প্রকল্পের পক্ষে মত দিয়েছিলেন।

বর্তমানে রাজনৈতিক মেরুকরণ সম্পূর্ণ নতুন রূপ নিয়েছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে অরুণাচল প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বসিরাম সিরাম এক স্মারকলিপিতে জানান, উজানে চীনের পানি প্রত্যাহারের যুক্তিতে স্থানীয় আদিবাসীদের পূর্বস্বত্ব ও অধিকার খর্ব করা অনুচিত। সেপ্টেম্বরে ভারতীয় যুব কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক তারহ জনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্র ও রাজ্যে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার আদিবাসীদের দাবির মুখে স্বৈরতান্ত্রিক আচরণ করছে। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী পেমা খানডু প্রকল্পের পূর্ণ বাস্তবায়নে অনড় থেকে গত ২১ সেপ্টেম্বর বাঁধ বিরোধিতাকারী সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সবচেয়ে নাটকীয় পরিবর্তন এসেছে ওজিং তাসিংয়ের ক্ষেত্রে; যিনি একসময় বাঁধের কট্টর বিরোধী ছিলেন, তিনি এখন খানডু মন্ত্রিসভার গ্রামীণ উন্নয়ন ও পঞ্চায়েতিরাজ মন্ত্রী। নিজের আগের অবস্থান বদলে তাসিং এখন বলছেন, ‘আমরা যদি নিজেদের বাঁধ নির্মাণ না করি, আর চীন যদি তাদের বাঁধকে আমাদের বিরুদ্ধে “পানিবোমা” হিসেবে ব্যবহার করে; আমাদের ওপর তার প্রভাব কেমন হবে?’

এই প্রকল্পের মূলে রয়েছে ভারত ও চীনের সুদীর্ঘ ভূকৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা। ১৯৮২ সালে সিয়াং ও সুবনসিরি নদীর পানি নিয়ে ভারতের প্রথম পরিকল্পনায় চীন কোনো মুখ্য কারণ ছিল না। পরবর্তীতে ২০০২ সালে বেইজিংয়ের সাথে বর্ষাকালের জলতাত্ত্বিক তথ্য বিনিময়ের সমঝোতা হয়। ২০০৩ সালে ভারত ৫০ হাজার মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জাতীয় পরিকল্পনা হাতে নেয়, যার ২৭ হাজার মেগাওয়াটই অরুণাচলে হওয়ার কথা ছিল। ২০১১ সালে সংসদে চীন কর্তৃক নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বাঁধ নির্মাণের খবর আসার পর এবং ২০১৩ সালে চীনের বাড়তি প্রকল্পের বিপরীতে ভাটির দেশের অধিকার নিয়ে দিল্লি সরব হয়। ২০১৭ সালে নীতি আয়োগের পরামর্শে প্রস্তাবিত সিয়াং আপার স্টেজ-১ ও ২ একত্র করে ১১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের একক বহুমুখী জলাধারের রূপ দেওয়া হয়। বিপরীতে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তিব্বতের ভাটি অঞ্চলে ৬০ হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতার এক বিশাল প্রকল্পের ছাড়পত্র দেয় বেইজিং। ভারতীয় সীমান্ত থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে নদীর ২ হাজার মিটার খাড়া ঢালকে কাজে লাগিয়ে পাঁচটি ধাপে এই কেন্দ্র বানাবে চীন। এর ফলে ভাটিতে পানিপ্রবাহ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়া কিংবা হঠাৎ বিপুল পানি ছেড়ে কৃত্রিম প্লাবনের আশঙ্কায় পাল্টা প্রতিরোধক হিসেবে ভারত সিয়াংয়ে বড় জলাধার গড়তে চাইছে।

তবে সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ড্যামস, রিভার্স অ্যান্ড পিপলসের সমন্বয়ক হিমাংশু ঠাক্করের মতে, আন্তর্জাতিক আইনে তথাকথিত ‘প্রথম ব্যবহারকারীর অধিকার’-এর কার্যকর ভিত্তি নেই। তাঁর প্রস্তাব, স্থানীয়দের ওপর বাঁধ না চাপিয়ে ভারতের উচিত চীনের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা এবং যৌথ পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণের অধিকার দাবি করা। এদিকে আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ বিচারব্যবস্থা ‘কেবাং’-এর ঊর্ধ্বে থাকা সর্বোচ্চ সামাজিক পরিষদ ‘বোগুম বোকাং কেবাং’ দীর্ঘ ২৫ বছর পর ২০২৫ সালের আগস্টে আপার সিয়াংয়ের গেকুতে এক বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করে। এসআইএফএফ-এর মতে, এই বাঁধ হলে ২৭টি গ্রাম সম্পূর্ণ বিলীন হবে, বহু বসতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং বাস্তুহারা হবেন এক থেকে দেড় লাখ মানুষ। পূর্বপুরুষ ‘আবো তানি’র পুণ্যভূমি ও ‘আনে সিয়াং’ (মা) হিসেবে পূজিত এই নদী আদিবাসীদের সংস্কৃতি ও অস্তিত্বের প্রতীক। গুয়াহাটি থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী আদি স্টুডেন্টস ইউনিয়নের এক সাবেক প্রতিনিধির তোলা প্রশ্নটিই এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে—জাতীয় নিরাপত্তার দায় কাদের বহন করতে হবে, উন্নয়ন কারা নির্ধারণ করবে এবং নদীপাড়ের মানুষদের সংস্কৃতি জলাঞ্জলি না দিয়ে নদীকে কাজে লাগানো যায় কি না।

advertisement
advertisement

মরুর দেশের দুম্বা পালন করা হচ্ছে বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গায়, কতটা লাভজনক

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৫ নভেম্বর ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
মরুর দেশের দুম্বা পালন করা হচ্ছে বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গায়, কতটা লাভজনক

মরুর দেশের দুম্বা পালন করা হচ্ছে বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গায়, কতটা লাভজনক

অর্থনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গায় এবার মধ্যপ্রাচ্যের জনপ্রিয় মরুভূমির প্রাণী দুম্বা পালনের অভিনব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রচলিত গবাদিপশুর পাশাপাশি ভিন্নধর্মী এই প্রাণীটি লালন-পালন করে সফলতার মুখ দেখার চেষ্টা করছেন এ অঞ্চলের উদ্যোক্তারা। মূলত আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং খাদ্যাভ্যাস মিলে যাওয়ায় এই দেশীয় খামারগুলোতে দুম্বা বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে বেড়ে উঠছে।

উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, দুম্বা পালনের জন্য খুব বড় পরিসরে কোনো অবকাঠামোর প্রয়োজন হয় না এবং এর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বেশ ভালো। সাধারণ ছাগল বা ভেড়ার মতো করেই এদের পরিচর্যা করা সম্ভব, যা খামারিদের জন্য বাড়তি সুবিধা তৈরি করেছে। এর প্রধান খাদ্য হিসেবে ঘাস, খড় ও দানাদার খাবারের পাশাপাশি দেশীয় প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে, যা খরচ অনেকটাই কমিয়ে আনছে।

বর্তমানে বাজারে দুম্বার মাংসের প্রচুর চাহিদা থাকায় স্থানীয় পর্যায়ে এর অর্থনৈতিক সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কোরবানি ঈদ কিংবা বড় কোনো সামাজিক আয়োজনে এসব দুম্বার চড়া দাম পাওয়া যায়, যা খামারিদের মোটা অঙ্কের মুনাফা অর্জনে সাহায্য করছে। সাধারণ গরুর খামারের তুলনায় কম খরচে ও স্বল্প সময়ে দুম্বা বিক্রি করে বেশি লাভবান হওয়া সম্ভব হওয়ায় নতুন অনেকেই এই ব্যবসায় আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকেও দুম্বা পালনকারী উদ্যোক্তাদের সার্বিক পরামর্শ ও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে চুয়াডাঙ্গার গণ্ডি পেরিয়ে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও এই লাভজনক দুম্বা পালন ছড়িয়ে পড়বে বলে আশা প্রকাশ করছেন খামারি ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

সাইবার হামলায় অকেজো ইউরোপের সাত দেশের সুপারমার্কেট ফ্রিজ

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৫ নভেম্বর ২০২৬, ৭:১০ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সাইবার হামলায় অকেজো ইউরোপের সাত দেশের সুপারমার্কেট ফ্রিজ

সাইবার হামলায় অকেজো ইউরোপের সাত দেশের সুপারমার্কেট ফ্রিজ

প্রযুক্তি ডেস্ক: ইউরোপের সাতটি দেশের অসংখ্য সুপারমার্কেটের হিমায়ন ব্যবস্থায় বড় ধরনের সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই আকস্মিক সাইবার আক্রমণের ফলে দোকানগুলোর বহু রেফ্রিজারেটর এবং ডিপ ফ্রিজ সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়ে। এর ফলে বিপণি বিতানগুলোতে সংরক্ষিত বিপুল পরিমাণ কাঁচা ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য নষ্ট হয়ে যাওয়ার তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর একাধিক সুপারমার্কেট চেইন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

আক্রান্ত হওয়া দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বেলজিয়াম, সুইডেন, আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড এবং লুক্সেমবার্গ। বেলজিয়াম ও লুক্সেমবার্গে ডেলহেইজের প্রায় চল্লিশটি শাখা এই হামলার শিকার হয়েছে। এছাড়া ফরাসি মালিকানাধীন সুপারমার্কেট ক্যারেফোরের বেলজিয়াম শাখা এবং কোলরুইট গ্রুপের পরিচালনাধীন স্পার স্টোরের বেশ কয়েকটি দোকানেও একই সমস্যা দেখা দিয়েছে। সুইডেনের আইকিয়া, আইসিএ এবং কুপের পাশাপাশি আয়ারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের বিভিন্ন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানও এই হামলার কবলে পড়েছে।

ফ্রিজ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান সাবকোবেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টেফান মোয়েলানস বেলগা সংবাদ সংস্থাকে জানান যে হ্যাকাররা সুনির্দিষ্ট কৌশলে ফ্রিজগুলোর ইভাপোরেটর ডিফ্রস্ট মোডে পাঠিয়ে দেয়। এর ফলে যন্ত্রগুলোর তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে শুরু করে এবং কিছু ক্ষেত্রে তা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে যায়। এর আগে কিছুদিন আগে ফ্রান্সেও একই কায়দায় সাইবার হামলা চালানো হয়েছিল। ইন্টারনেটের সঙ্গে সংযুক্ত থাকার সুবাদে দূর থেকেই এই ত্রুটি ঘটানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত যন্ত্রগুলো নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করতে কারিগরি দলগুলো রাতভর পরিশ্রম করেছে।

এই সাইবার হামলার পেছনে কারা জড়িত রয়েছে এবং কী উদ্দেশ্যে এটি করা হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট হয়নি। বেলজিয়াম, সুইডেন ও যুক্তরাজ্যের জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সংস্থাগুলো যৌথভাবে পুরো বিষয়টি গভীর পর্যবেক্ষণে রেখেছে। মার্কিন সামরিক ঘাঁটির হিমায়ন ব্যবস্থায় সম্প্রতি ঘটিত কোনো ত্রুটির সঙ্গে ইউরোপের এই ঘটনার যোগসূত্র রয়েছে কি না, তাতি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে বেলজিয়ামের একটি শাখা কর্তৃপক্ষ প্রায় এক লাখ ইউরো মূল্যের পণ্য নষ্ট হওয়ার কথা জানিয়েছে। তবে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেছে।

নিজ দলের কোন্দলেও চাঙা মার্কিন মুসলিম ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর সমর্থকেরা

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৫ নভেম্বর ২০২৬, ৭:০৯ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
নিজ দলের কোন্দলেও চাঙা মার্কিন মুসলিম ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর সমর্থকেরা

নিজ দলের কোন্দলেও চাঙা মার্কিন মুসলিম ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর সমর্থকেরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ডেমোক্র্যাট দলের ভেতরকার কোন্দল ও বিভক্তি নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান হ্যালি স্টিভেন্স নিজ দলের প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদকে সমর্থন না দিয়ে উল্টো বিরোধী দলের সিনেট প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। দলের একজন প্রভাবশালী নেতার এমন বিতর্কিত সিদ্ধান্ত সত্ত্বেও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আল-সাইয়েদের সমর্থকেরা দমে যাননি। বরং এই অভ্যন্তরীণ সংকটের কারণে তারা আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নেমেছেন এবং প্রচারণায় নতুন গতিশীলতা এসেছে।

সম্প্রতি মিশিগানের সাউথফিল্ডে আয়োজিত এক নির্বাচনি সমাবেশে আল-সাইয়েদের সমর্থকদের মধ্যে তীব্র উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ করা গেছে। সমাবেশে অংশ নেওয়া সাধারণ কর্মী ও সমর্থকেরা জানান, দলীয় নেতার এমন অবস্থান তাদের জন্য কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলেনি, বরং তাদের মনোবল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ডেমোক্র্যাট দলের সমর্থকেরা মনে করেন, দলের ভেতরের এই অনৈক্য উপেক্ষা করে আল-সাইয়েদের বিজয় নিশ্চিত করতে সবাইকে আরও জোরালোভাবে কাজ করতে হবে।

সমাবেশে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি মন্তব্য করেছেন যে, দলীয় প্রার্থীর বদলে রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত হ্যালি স্টিভেন্সের নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্যই ক্ষতিকর প্রমাণিত হতে পারে। তাদের মতে, এই ধরনের অবস্থান দলের ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে যা শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষেই বেশি কাজে লাগতে পারে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের এমন ঘটনাকে তারা একধরনের বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবেও অভিহিত করেছেন।

এদিকে দলীয় কোন্দলের মাঝেও আল-সাইয়েদের নির্বাচনি প্রচারশিবির দারুণ এক আর্থিক সাফল্যের মুখ দেখেছে। স্টিভেন্সের বিরোধিতার ঘোষণার পরপরই মাত্র একদিনের ব্যবধানে তাদের তহবিলে চব্বিশ লাখ ডলারের বেশি জমা হয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ঊনত্রিশ কোটি টাকা। প্রচারণা শুরু হওয়ার পর এটিই তাদের একদিনে সর্বোচ্চ ফান্ড সংগ্রহের রেকর্ড। এই অভাবনীয় সাফল্যকে সমর্থকেরা নিছক কাকতালীয় বলতে নারাজ, বরং একে তারা দলীয় ঐক্যের বড় প্রমাণ হিসেবে দেখছেন।