খুঁজুন
advertisement
advertisement
বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

পর্যটনের আড়ালে মাধবকুণ্ডের সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য ও সংকটের চিত্র

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৮ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
পর্যটনের আড়ালে মাধবকুণ্ডের সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য ও সংকটের চিত্র

চশমাপরা হনুমান

পাহাড়ের বুক চিরে আছড়ে পড়া জলরাশি আর কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতটি পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। তবে প্রকৃতিবিজ্ঞানীদের চোখে এটি কেবল একটি দর্শনীয় স্থান নয়, বরং বাংলাদেশের পাহাড়ি জীববৈচিত্র্য অনুসন্ধানের একটি অনুপম প্রাকৃতিক গবেষণাগার। এখানকার ঝোপঝাড়, জলপ্রপাতসংলগ্ন মিশ্র চিরহরিৎ বন ও ঝরা পাতার স্তূপ অসংখ্য ছোট ও নিশাচর প্রাণীর গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল। বৃহত্তর পাথারিয়া পাহাড়ের অন্তর্ভুক্ত এই বনাঞ্চল বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলা হয়ে ভারতের আসাম রাজ্যের করিমগঞ্জ জেলা পর্যন্ত বিস্তৃত। তবে ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমল থেকে শুরু করে স্বাধীনতার পরও নির্বিচার বৃক্ষনিধন, দখলদারি এবং চা-বাগানের বিস্তৃতির ফলে বনটি বহুলাংশে সংকুচিত হয়েছে। এর ফলে এককালে এখানে বিচরণ করা হাতি, গণ্ডার, বুনো মহিষ, বাঘ, চিতাবাঘ, ভালুক, গৌর ও সাম্বারের মতো বৃহৎ স্তন্যপায়ীরা চিরতরে হারিয়ে গেছে। সংলগ্ন দেশগুলোতে এসব প্রাণী এখনো টিকে থাকলেও মাধবকুণ্ডের খণ্ডিত বনাঞ্চলে এখন ছোট ও কম পরিচিত বন্য প্রাণীদের অস্তিত্বই প্রধান হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিগত এক যুগে এই ইকোপার্কের দৃশ্যপট দ্রুত বদলেছে। ২০১২ সালের আগস্টে যখন প্রথম জরিপ চালানো হয়, তখন পার্কের পথঘাট ছিল কাঁচা কিংবা ইট বিছানো এবং সেখানে বর্তমানের মতো চারতলা বিশ্রামাগার ছিল না; ছিল টিন বা টালির ছাউনিযুক্ত সাধারণ অবকাঠামো ও দোতলা একটি ভবনের অল্প কয়েকটি কক্ষ। খাবারের জন্য আগে থেকে বলে রাখতে হতো এবং দু-একটি দোকানে হস্তশিল্প ও বাগানের ফল বিক্রি হতো। তখন ঘন ও বুনো পরিবেশে নানা প্রজাতির কীটপতঙ্গ, সরীসৃপ, পাখি ও উভচরের অবাধ বিচরণ দেখা যেত। এমনকি ভারী বৃষ্টিপাতও গবেষণার নতুন সুযোগ তৈরি করত, যার মাধ্যমে বেশ কিছু প্রাণী দেশে প্রথমবার নথিভুক্ত হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, গত ডিসেম্বরের এক সফরে ১৬ থেকে ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস শীতের রাতে প্রজননের উদ্দেশ্যে পানিতে নামা বুনো বারডমোরের সরু মাথা ব্যাঙের দেখা মিলেছিল। সেখানে দুই থেকে তিন ডজন পুরুষ ব্যাঙকে ডালপালা ও পানির কিনারে ডাকাডাকি এবং কয়েক জোড়াকে ডিম পাড়তে দেখা যায়।

বাংলাদেশের প্রাণিকুলের লাল তালিকা হালনাগাদ করার মাঠপর্যায়ের কাজের অংশ হিসেবে গত ১৫ আগস্ট মাধবকুণ্ডে আরেকটি জরিপ চালানো হয়। এর আগের দিন দলটি হামহাম জলপ্রপাত ও তৎসংলগ্ন বনে অনুসন্ধান শেষ করে ঘুরতি পথে এখানে আসে। বৃষ্টি সত্ত্বেও শত শত পর্যটক তখন ঝরনার পানিতে গোসল ও আনন্দ-উল্লাসে মত্ত ছিলেন। তীব্র কোলাহলের মধ্যেও বন্য প্রাণীর টিকে থাকার লড়াই লক্ষ্য করা যায়। দেখা মেলে চার থেকে ছয়টি অপরিণত চশমাপরা হনুমানের একটি দলের, যদিও সেখানে কোনো পূর্ণবয়স্ক সদস্য ছিল না। এছাড়া একটি কাঠবিড়ালিকে মানুষের ফেলে দেওয়া পেয়ারা খেতে এবং পথের পাশের গাছে একটি নিশাচর লজ্জাবতী বানরকে কুণ্ডলী পাকিয়ে ঘুমাতে দেখা যায়। শেষ বিকেলে নজরে আসে ৫ ইঞ্চি বা ১২-১৩ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্যের অভিনব পাখি বনমালি বা মখমল-কপাল কীটকুড়ানি। নীলচে পিঠ, হালকা সাদাটে পেট, চোখা লাল ঠোঁট ও চোখে হলুদ বলয় থাকা এই পাখি কাঠঠোকরার মতো কাঠে ঠোকর না মেরে ওপর থেকে নিচের দিকে নেমে গাছের বাকল ও ছত্রাকজাতীয় ছোপ থেকে পোকা খুঁজে খায়। পুরুষ পাখির কপালে কালো মখমলের মতো দাগ ঘাড় পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে, যা স্ত্রী পাখিতে অনুপস্থিত। তবে মানুষের উপস্থিতির কারণে জলপ্রপাতের পাদদেশে এক ঘণ্টারও বেশি সময় খুঁজে মাত্র একটি চোখা-মাথা পাহাড়ি ব্যাঙের দেখা মেলে।

সন্ধ্যা ঘনিয়ে পর্যটকদের প্রস্থান ঘটতেই মাধবকুণ্ড ভিন্ন এক রূপ ধারণ করে। ঝরনার প্রবল শব্দের মাঝে চারপাশ যখন শান্ত হয়, তখন প্রায় ১০০ বর্গমিটার জায়গাজুড়ে ৩০টিরও বেশি চোখা-মাথা পুরুষ পাহাড়ি ব্যাঙের ডাক শোনা যায়, যা দিনের ভিড়ে সম্পূর্ণ অদৃশ্য ছিল। জলপ্রপাতের ধার থেকে ওঠার পথে প্রায় দেড় ফুট দীর্ঘ একটি অতিকায় কাঠিপোকার দেখা মেলে। পরবর্তীতে বিষধর সবুজ বোড়া এবং দ্রুত রাস্তা পার হতে থাকা একটি কালকেউটে সাপের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। এছাড়া মাত্র ১০০ মিটারের ব্যবধানে মাঝারি গাছে তিনটি অপ্রাপ্তবয়স্ক ছোট গন্ধগোকুল বা ভাম এবং এক ঘণ্টারও কম সময়ে শিকাররত চারটি লজ্জাবতী বানর প্রত্যক্ষ করেন গবেষকরা। ঝিঁঝি পোকা ও সিকাডার অবিরাম ডাকে মুখরিত এই পরিবেশ প্রমাণ করে যে মাধবকুণ্ডে রাতের বেলা সম্পূর্ণ আলাদা এক প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে।

গবেষকদের মতে, একটি বন একই সাথে পর্যটন কেন্দ্র ও বন্য প্রাণীর নিরাপদ আশ্রয় হতে পারে, যদি পরিবেশের ধারণক্ষমতা মেনে সুপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা যায়। অবকাঠামোগত উন্নয়ন কিংবা দর্শনার্থীদের সমাগম যেন ঝরনাপারের জলাশয়, ছড়া, ঝোপঝাড় এবং নিশাচর প্রাণীর অন্ধকারের প্রয়োজনকে বিঘ্নিত না করে, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি। ব্যাঙের জন্য দূষণমুক্ত পানি, সাপের লুকানোর জায়গা, লজ্জাবতী বানরের নিরবচ্ছিন্ন অন্ধকার আর কীটপতঙ্গ ও পাখিদের জন্য খাদ্যগাছ রক্ষা করা আবশ্যক। দৃশ্যমান ঝরনাটির পাশাপাশি তার চারপাশের জীবন্ত বাস্তুতন্ত্র ও বনভূমিকে অগ্রাধিকার দিয়ে সংরক্ষণ করা না হলে মাধবকুণ্ডের এই সমৃদ্ধ বন্য প্রাণভুবন ভবিষ্যতে চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

advertisement
advertisement

মরুর দেশের দুম্বা পালন করা হচ্ছে বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গায়, কতটা লাভজনক

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১১:০৯ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
মরুর দেশের দুম্বা পালন করা হচ্ছে বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গায়, কতটা লাভজনক

মরুর দেশের দুম্বা পালন করা হচ্ছে বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গায়, কতটা লাভজনক

অর্থনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গায় এবার মধ্যপ্রাচ্যের জনপ্রিয় মরুভূমির প্রাণী দুম্বা পালনের অভিনব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রচলিত গবাদিপশুর পাশাপাশি ভিন্নধর্মী এই প্রাণীটি লালন-পালন করে সফলতার মুখ দেখার চেষ্টা করছেন এ অঞ্চলের উদ্যোক্তারা। মূলত আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং খাদ্যাভ্যাস মিলে যাওয়ায় এই দেশীয় খামারগুলোতে দুম্বা বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে বেড়ে উঠছে।

উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, দুম্বা পালনের জন্য খুব বড় পরিসরে কোনো অবকাঠামোর প্রয়োজন হয় না এবং এর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বেশ ভালো। সাধারণ ছাগল বা ভেড়ার মতো করেই এদের পরিচর্যা করা সম্ভব, যা খামারিদের জন্য বাড়তি সুবিধা তৈরি করেছে। এর প্রধান খাদ্য হিসেবে ঘাস, খড় ও দানাদার খাবারের পাশাপাশি দেশীয় প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে, যা খরচ অনেকটাই কমিয়ে আনছে।

বর্তমানে বাজারে দুম্বার মাংসের প্রচুর চাহিদা থাকায় স্থানীয় পর্যায়ে এর অর্থনৈতিক সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কোরবানি ঈদ কিংবা বড় কোনো সামাজিক আয়োজনে এসব দুম্বার চড়া দাম পাওয়া যায়, যা খামারিদের মোটা অঙ্কের মুনাফা অর্জনে সাহায্য করছে। সাধারণ গরুর খামারের তুলনায় কম খরচে ও স্বল্প সময়ে দুম্বা বিক্রি করে বেশি লাভবান হওয়া সম্ভব হওয়ায় নতুন অনেকেই এই ব্যবসায় আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকেও দুম্বা পালনকারী উদ্যোক্তাদের সার্বিক পরামর্শ ও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে চুয়াডাঙ্গার গণ্ডি পেরিয়ে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও এই লাভজনক দুম্বা পালন ছড়িয়ে পড়বে বলে আশা প্রকাশ করছেন খামারি ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

সাইবার হামলায় অকেজো ইউরোপের সাত দেশের সুপারমার্কেট ফ্রিজ

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩ নভেম্বর ২০২৬, ৯:১০ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সাইবার হামলায় অকেজো ইউরোপের সাত দেশের সুপারমার্কেট ফ্রিজ

সাইবার হামলায় অকেজো ইউরোপের সাত দেশের সুপারমার্কেট ফ্রিজ

প্রযুক্তি ডেস্ক: ইউরোপের সাতটি দেশের অসংখ্য সুপারমার্কেটের হিমায়ন ব্যবস্থায় বড় ধরনের সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই আকস্মিক সাইবার আক্রমণের ফলে দোকানগুলোর বহু রেফ্রিজারেটর এবং ডিপ ফ্রিজ সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়ে। এর ফলে বিপণি বিতানগুলোতে সংরক্ষিত বিপুল পরিমাণ কাঁচা ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য নষ্ট হয়ে যাওয়ার তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর একাধিক সুপারমার্কেট চেইন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

আক্রান্ত হওয়া দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বেলজিয়াম, সুইডেন, আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড এবং লুক্সেমবার্গ। বেলজিয়াম ও লুক্সেমবার্গে ডেলহেইজের প্রায় চল্লিশটি শাখা এই হামলার শিকার হয়েছে। এছাড়া ফরাসি মালিকানাধীন সুপারমার্কেট ক্যারেফোরের বেলজিয়াম শাখা এবং কোলরুইট গ্রুপের পরিচালনাধীন স্পার স্টোরের বেশ কয়েকটি দোকানেও একই সমস্যা দেখা দিয়েছে। সুইডেনের আইকিয়া, আইসিএ এবং কুপের পাশাপাশি আয়ারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের বিভিন্ন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানও এই হামলার কবলে পড়েছে।

ফ্রিজ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান সাবকোবেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টেফান মোয়েলানস বেলগা সংবাদ সংস্থাকে জানান যে হ্যাকাররা সুনির্দিষ্ট কৌশলে ফ্রিজগুলোর ইভাপোরেটর ডিফ্রস্ট মোডে পাঠিয়ে দেয়। এর ফলে যন্ত্রগুলোর তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে শুরু করে এবং কিছু ক্ষেত্রে তা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে যায়। এর আগে কিছুদিন আগে ফ্রান্সেও একই কায়দায় সাইবার হামলা চালানো হয়েছিল। ইন্টারনেটের সঙ্গে সংযুক্ত থাকার সুবাদে দূর থেকেই এই ত্রুটি ঘটানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত যন্ত্রগুলো নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করতে কারিগরি দলগুলো রাতভর পরিশ্রম করেছে।

এই সাইবার হামলার পেছনে কারা জড়িত রয়েছে এবং কী উদ্দেশ্যে এটি করা হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট হয়নি। বেলজিয়াম, সুইডেন ও যুক্তরাজ্যের জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সংস্থাগুলো যৌথভাবে পুরো বিষয়টি গভীর পর্যবেক্ষণে রেখেছে। মার্কিন সামরিক ঘাঁটির হিমায়ন ব্যবস্থায় সম্প্রতি ঘটিত কোনো ত্রুটির সঙ্গে ইউরোপের এই ঘটনার যোগসূত্র রয়েছে কি না, তাতি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে বেলজিয়ামের একটি শাখা কর্তৃপক্ষ প্রায় এক লাখ ইউরো মূল্যের পণ্য নষ্ট হওয়ার কথা জানিয়েছে। তবে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেছে।

নিজ দলের কোন্দলেও চাঙা মার্কিন মুসলিম ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর সমর্থকেরা

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩ নভেম্বর ২০২৬, ৪:৫৮ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
নিজ দলের কোন্দলেও চাঙা মার্কিন মুসলিম ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর সমর্থকেরা

নিজ দলের কোন্দলেও চাঙা মার্কিন মুসলিম ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর সমর্থকেরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ডেমোক্র্যাট দলের ভেতরকার কোন্দল ও বিভক্তি নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান হ্যালি স্টিভেন্স নিজ দলের প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদকে সমর্থন না দিয়ে উল্টো বিরোধী দলের সিনেট প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। দলের একজন প্রভাবশালী নেতার এমন বিতর্কিত সিদ্ধান্ত সত্ত্বেও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আল-সাইয়েদের সমর্থকেরা দমে যাননি। বরং এই অভ্যন্তরীণ সংকটের কারণে তারা আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নেমেছেন এবং প্রচারণায় নতুন গতিশীলতা এসেছে।

সম্প্রতি মিশিগানের সাউথফিল্ডে আয়োজিত এক নির্বাচনি সমাবেশে আল-সাইয়েদের সমর্থকদের মধ্যে তীব্র উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ করা গেছে। সমাবেশে অংশ নেওয়া সাধারণ কর্মী ও সমর্থকেরা জানান, দলীয় নেতার এমন অবস্থান তাদের জন্য কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলেনি, বরং তাদের মনোবল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ডেমোক্র্যাট দলের সমর্থকেরা মনে করেন, দলের ভেতরের এই অনৈক্য উপেক্ষা করে আল-সাইয়েদের বিজয় নিশ্চিত করতে সবাইকে আরও জোরালোভাবে কাজ করতে হবে।

সমাবেশে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি মন্তব্য করেছেন যে, দলীয় প্রার্থীর বদলে রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত হ্যালি স্টিভেন্সের নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্যই ক্ষতিকর প্রমাণিত হতে পারে। তাদের মতে, এই ধরনের অবস্থান দলের ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে যা শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষেই বেশি কাজে লাগতে পারে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের এমন ঘটনাকে তারা একধরনের বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবেও অভিহিত করেছেন।

এদিকে দলীয় কোন্দলের মাঝেও আল-সাইয়েদের নির্বাচনি প্রচারশিবির দারুণ এক আর্থিক সাফল্যের মুখ দেখেছে। স্টিভেন্সের বিরোধিতার ঘোষণার পরপরই মাত্র একদিনের ব্যবধানে তাদের তহবিলে চব্বিশ লাখ ডলারের বেশি জমা হয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ঊনত্রিশ কোটি টাকা। প্রচারণা শুরু হওয়ার পর এটিই তাদের একদিনে সর্বোচ্চ ফান্ড সংগ্রহের রেকর্ড। এই অভাবনীয় সাফল্যকে সমর্থকেরা নিছক কাকতালীয় বলতে নারাজ, বরং একে তারা দলীয় ঐক্যের বড় প্রমাণ হিসেবে দেখছেন।