খুঁজুন
advertisement
advertisement
বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

আসন্ন বাজেটে রাজস্ব আদায়ের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা অবাস্তব: এনসিপি; অর্থনৈতিক সংকট ও আইএমএফ নির্ভরতার হুঁশিয়ারি

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ৬:৫০ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
আসন্ন বাজেটে রাজস্ব আদায়ের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা অবাস্তব: এনসিপি; অর্থনৈতিক সংকট ও আইএমএফ নির্ভরতার হুঁশিয়ারি

জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে আসন্ন বাজেটে সরকারের ৪২ শতাংশ রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রাকে অবাস্তব ও অতি উচ্চাভিলাষী বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। ‘জাতীয় বাজেটে তারুণ্যের অংশীদারত্ব: সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে এনসিপির যুব সংগঠন জাতীয় যুবশক্তি। আসিফ মাহমুদ হুঁশিয়ারি দেন যে, এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলে দেশ তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়বে এবং আবারও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের উপর নির্ভরশীল হতে বাধ্য হবে।

এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ আরও প্রশ্ন তোলেন, আসন্ন বাজেটে অনুৎপাদনশীল খাত ও বিশেষ থোক বরাদ্দে ব্যয় বৃদ্ধির সরকারি ঘোষণা ইতিবাচক হলেও, এর অর্থায়ন কোথা থেকে হবে তা স্পষ্ট নয়। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো কর ফাঁকি দিলেও সাধারণ ও মধ্যবিত্ত নাগরিকেরা নিয়মিতভাবে মোটা অঙ্কের কর পরিশোধ করছেন। উদাহরণস্বরূপ তিনি উল্লেখ করেন, একজন সাধারণ গাড়িচালক বছরে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা কর দেন, এমনকি মোটরসাইকেল চালকদের উপরও বার্ষিক করের বোঝা বাড়ানো হচ্ছে।

সরকারের জনস্বার্থ উপেক্ষা করে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার অভিযোগ তুলে আসিফ মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সাম্প্রতিক নিয়োগ এবং আর্থিক খাতে বিতর্কিত ব্যক্তিদের পুনর্বাসন প্রমাণ করে যে সরকার উল্টো পথে হাঁটছে। তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ট্রেন ইতিমধ্যে ছেড়ে দিয়েছে এবং তা আর পেছনে ফেরার সুযোগ নেই। এই গণ-আকাঙ্ক্ষা ফ্যাসিবাদের চিরতরে বিলোপ ঘটাবেই। যারা পুরোনো ও গণবিরোধী শাসনব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করবে, বাংলাদেশের সচেতন জনগণ তাদের সবাইকে চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যান করবে।’

সেমিনারে অনলাইনে চাকরি খোঁজার প্রতিষ্ঠান ‘বিডিজবস’–এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এ কে এম ফাহিম মাসরুর অভিযোগ করেন, গত ১৫ বছর ধরে ফ্রিল্যান্সিং ও আইটি প্রশিক্ষণের নামে হাজার কোটি টাকা অপচয় করা হয়েছে। তিনি প্রচলিত এসব প্রশিক্ষণকে অর্থ অপচয়ের শামিল উল্লেখ করে বলেন, বর্তমান সরকারও এই ধারা অব্যাহত রেখেছে। প্রথাগত প্রশিক্ষণের পরিবর্তে যুবকদের সরাসরি ঋণ দেওয়ার প্রস্তাব করে বিডিজবসের সিইও বলেন, সরকার ২১-২২ বছর বয়সী তরুণদের জাপান বা চীনের মতো দেশে গিয়ে বৈশ্বিক মানের দক্ষতা অর্জনের জন্য সহজ শর্তে ঋণ প্রদান এবং গ্যারান্টর হিসেবে কাজ করা উচিত। এক্ষেত্রে তিনি নেপালের মতো উদ্ভাবনী উপায়ে তরুণদের বিদেশে উচ্চতর প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টির আহ্বান জানান।

এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সেমিনারে বলেন, একদিকে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে কারাগার খুলে দিয়ে নারায়ণগঞ্জের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে (আইভী রহমান) বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার ভবিষ্যৎ অধিকার আদালতই নির্ধারণ করবে। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও অভিযোগ করেন যে, মাঠপর্যায়ে আওয়ামী লীগকে প্রতিহত না করে বিএনপির কিছু নেতা জামায়াতকে দমনের বিষয়ে গোপন বৈঠক করছেন। তিনি বর্তমান সরকারের একগুঁয়ে আচরণের সমালোচনা করে বলেন, দুই শতাধিক আসন পেয়ে সরকার জনগণের কথা না শুনে স্বেচ্ছাচারী আচরণ করছে।

সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘সংস্কার বাস্তবায়ন, হত্যার বিচার এবং বাজেটে তরুণদের কর্মসংস্থানের সঠিক ব্যবস্থা না করলে সরকারকে জনগণ সহযোগিতা করবে না। তাদেরও পূর্ববর্তী সরকারের মতোই পরিণতি ভোগ করতে হবে।’ তিনি ভারত থেকে মুসলিম পরিচয়ের কারণে ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ ট্যাগ দিয়ে পুশব্যাক করাকে দক্ষিণ এশিয়ার একধরনের জাতিগত নিধন (অ্যাথনিক ক্লিনজিং) হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি আরও বলেন, বিএসএফ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঢুকে হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে, অথচ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একে ‘বর্ডার কিলিং’ না বলে ভারতের ‘অখণ্ড ভারত’ ধারণার বয়ানকে সমর্থন করছেন, যা দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।

জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি তারিকুল ইসলাম সেমিনারে বলেন, দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ তরুণ জনগোষ্ঠীর সংকট ও কর্মসংস্থান নিয়ে সরকার উদাসীন। তিনি অভিযোগ করেন, গত ৫৪ বছর ধরে দেশের বড় রাজনৈতিক দলগুলো উৎপাদনমুখী কর্মসংস্থান না বাড়িয়ে রাজনৈতিক স্বার্থে চাঁদাবাজিকে কর্মসংস্থান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে, যা ৫ আগস্টের পরেও চলমান রয়েছে।

‘জাতীয় বাজেটে তারুণ্যের অংশীদারত্ব: সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক এই সেমিনারে কর্মসংস্থান ও দক্ষ জনশক্তি গড়ার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। জাতীয় যুবশক্তির সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী ফরহাদ সোহেলের সঞ্চালনায় এতে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন, ছায়া বাজেট প্রণয়ন কমিটির উপপ্রধান আবদুল্লাহ আল ফয়সাল, জাতীয় যুবশক্তির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো. তুহিন মাহমুদ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী আয়েশা আহমেদ এবং জ্যেষ্ঠ সহসাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসিন আরাফাত।

advertisement
advertisement

মরুর দেশের দুম্বা পালন করা হচ্ছে বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গায়, কতটা লাভজনক

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১১:০৯ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
মরুর দেশের দুম্বা পালন করা হচ্ছে বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গায়, কতটা লাভজনক

মরুর দেশের দুম্বা পালন করা হচ্ছে বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গায়, কতটা লাভজনক

অর্থনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গায় এবার মধ্যপ্রাচ্যের জনপ্রিয় মরুভূমির প্রাণী দুম্বা পালনের অভিনব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রচলিত গবাদিপশুর পাশাপাশি ভিন্নধর্মী এই প্রাণীটি লালন-পালন করে সফলতার মুখ দেখার চেষ্টা করছেন এ অঞ্চলের উদ্যোক্তারা। মূলত আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং খাদ্যাভ্যাস মিলে যাওয়ায় এই দেশীয় খামারগুলোতে দুম্বা বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে বেড়ে উঠছে।

উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, দুম্বা পালনের জন্য খুব বড় পরিসরে কোনো অবকাঠামোর প্রয়োজন হয় না এবং এর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বেশ ভালো। সাধারণ ছাগল বা ভেড়ার মতো করেই এদের পরিচর্যা করা সম্ভব, যা খামারিদের জন্য বাড়তি সুবিধা তৈরি করেছে। এর প্রধান খাদ্য হিসেবে ঘাস, খড় ও দানাদার খাবারের পাশাপাশি দেশীয় প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে, যা খরচ অনেকটাই কমিয়ে আনছে।

বর্তমানে বাজারে দুম্বার মাংসের প্রচুর চাহিদা থাকায় স্থানীয় পর্যায়ে এর অর্থনৈতিক সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কোরবানি ঈদ কিংবা বড় কোনো সামাজিক আয়োজনে এসব দুম্বার চড়া দাম পাওয়া যায়, যা খামারিদের মোটা অঙ্কের মুনাফা অর্জনে সাহায্য করছে। সাধারণ গরুর খামারের তুলনায় কম খরচে ও স্বল্প সময়ে দুম্বা বিক্রি করে বেশি লাভবান হওয়া সম্ভব হওয়ায় নতুন অনেকেই এই ব্যবসায় আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকেও দুম্বা পালনকারী উদ্যোক্তাদের সার্বিক পরামর্শ ও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে চুয়াডাঙ্গার গণ্ডি পেরিয়ে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও এই লাভজনক দুম্বা পালন ছড়িয়ে পড়বে বলে আশা প্রকাশ করছেন খামারি ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

সাইবার হামলায় অকেজো ইউরোপের সাত দেশের সুপারমার্কেট ফ্রিজ

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩ নভেম্বর ২০২৬, ৯:১০ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সাইবার হামলায় অকেজো ইউরোপের সাত দেশের সুপারমার্কেট ফ্রিজ

সাইবার হামলায় অকেজো ইউরোপের সাত দেশের সুপারমার্কেট ফ্রিজ

প্রযুক্তি ডেস্ক: ইউরোপের সাতটি দেশের অসংখ্য সুপারমার্কেটের হিমায়ন ব্যবস্থায় বড় ধরনের সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই আকস্মিক সাইবার আক্রমণের ফলে দোকানগুলোর বহু রেফ্রিজারেটর এবং ডিপ ফ্রিজ সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়ে। এর ফলে বিপণি বিতানগুলোতে সংরক্ষিত বিপুল পরিমাণ কাঁচা ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য নষ্ট হয়ে যাওয়ার তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর একাধিক সুপারমার্কেট চেইন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

আক্রান্ত হওয়া দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বেলজিয়াম, সুইডেন, আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড এবং লুক্সেমবার্গ। বেলজিয়াম ও লুক্সেমবার্গে ডেলহেইজের প্রায় চল্লিশটি শাখা এই হামলার শিকার হয়েছে। এছাড়া ফরাসি মালিকানাধীন সুপারমার্কেট ক্যারেফোরের বেলজিয়াম শাখা এবং কোলরুইট গ্রুপের পরিচালনাধীন স্পার স্টোরের বেশ কয়েকটি দোকানেও একই সমস্যা দেখা দিয়েছে। সুইডেনের আইকিয়া, আইসিএ এবং কুপের পাশাপাশি আয়ারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের বিভিন্ন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানও এই হামলার কবলে পড়েছে।

ফ্রিজ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান সাবকোবেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টেফান মোয়েলানস বেলগা সংবাদ সংস্থাকে জানান যে হ্যাকাররা সুনির্দিষ্ট কৌশলে ফ্রিজগুলোর ইভাপোরেটর ডিফ্রস্ট মোডে পাঠিয়ে দেয়। এর ফলে যন্ত্রগুলোর তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে শুরু করে এবং কিছু ক্ষেত্রে তা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে যায়। এর আগে কিছুদিন আগে ফ্রান্সেও একই কায়দায় সাইবার হামলা চালানো হয়েছিল। ইন্টারনেটের সঙ্গে সংযুক্ত থাকার সুবাদে দূর থেকেই এই ত্রুটি ঘটানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত যন্ত্রগুলো নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করতে কারিগরি দলগুলো রাতভর পরিশ্রম করেছে।

এই সাইবার হামলার পেছনে কারা জড়িত রয়েছে এবং কী উদ্দেশ্যে এটি করা হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট হয়নি। বেলজিয়াম, সুইডেন ও যুক্তরাজ্যের জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সংস্থাগুলো যৌথভাবে পুরো বিষয়টি গভীর পর্যবেক্ষণে রেখেছে। মার্কিন সামরিক ঘাঁটির হিমায়ন ব্যবস্থায় সম্প্রতি ঘটিত কোনো ত্রুটির সঙ্গে ইউরোপের এই ঘটনার যোগসূত্র রয়েছে কি না, তাতি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে বেলজিয়ামের একটি শাখা কর্তৃপক্ষ প্রায় এক লাখ ইউরো মূল্যের পণ্য নষ্ট হওয়ার কথা জানিয়েছে। তবে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেছে।

নিজ দলের কোন্দলেও চাঙা মার্কিন মুসলিম ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর সমর্থকেরা

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩ নভেম্বর ২০২৬, ৪:৫৮ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
নিজ দলের কোন্দলেও চাঙা মার্কিন মুসলিম ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর সমর্থকেরা

নিজ দলের কোন্দলেও চাঙা মার্কিন মুসলিম ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর সমর্থকেরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ডেমোক্র্যাট দলের ভেতরকার কোন্দল ও বিভক্তি নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান হ্যালি স্টিভেন্স নিজ দলের প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদকে সমর্থন না দিয়ে উল্টো বিরোধী দলের সিনেট প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। দলের একজন প্রভাবশালী নেতার এমন বিতর্কিত সিদ্ধান্ত সত্ত্বেও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আল-সাইয়েদের সমর্থকেরা দমে যাননি। বরং এই অভ্যন্তরীণ সংকটের কারণে তারা আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নেমেছেন এবং প্রচারণায় নতুন গতিশীলতা এসেছে।

সম্প্রতি মিশিগানের সাউথফিল্ডে আয়োজিত এক নির্বাচনি সমাবেশে আল-সাইয়েদের সমর্থকদের মধ্যে তীব্র উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ করা গেছে। সমাবেশে অংশ নেওয়া সাধারণ কর্মী ও সমর্থকেরা জানান, দলীয় নেতার এমন অবস্থান তাদের জন্য কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলেনি, বরং তাদের মনোবল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ডেমোক্র্যাট দলের সমর্থকেরা মনে করেন, দলের ভেতরের এই অনৈক্য উপেক্ষা করে আল-সাইয়েদের বিজয় নিশ্চিত করতে সবাইকে আরও জোরালোভাবে কাজ করতে হবে।

সমাবেশে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি মন্তব্য করেছেন যে, দলীয় প্রার্থীর বদলে রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত হ্যালি স্টিভেন্সের নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্যই ক্ষতিকর প্রমাণিত হতে পারে। তাদের মতে, এই ধরনের অবস্থান দলের ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে যা শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষেই বেশি কাজে লাগতে পারে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের এমন ঘটনাকে তারা একধরনের বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবেও অভিহিত করেছেন।

এদিকে দলীয় কোন্দলের মাঝেও আল-সাইয়েদের নির্বাচনি প্রচারশিবির দারুণ এক আর্থিক সাফল্যের মুখ দেখেছে। স্টিভেন্সের বিরোধিতার ঘোষণার পরপরই মাত্র একদিনের ব্যবধানে তাদের তহবিলে চব্বিশ লাখ ডলারের বেশি জমা হয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ঊনত্রিশ কোটি টাকা। প্রচারণা শুরু হওয়ার পর এটিই তাদের একদিনে সর্বোচ্চ ফান্ড সংগ্রহের রেকর্ড। এই অভাবনীয় সাফল্যকে সমর্থকেরা নিছক কাকতালীয় বলতে নারাজ, বরং একে তারা দলীয় ঐক্যের বড় প্রমাণ হিসেবে দেখছেন।