খুঁজুন
advertisement
advertisement
বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

৬ কোটি ৬০ লাখ বছর আগের মহাবিপর্যয়: ডাইনোসর বিলুপ্তির পরও যেভাবে টিকে ছিল কিছু প্রাণী

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪:০০ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
৬ কোটি ৬০ লাখ বছর আগের মহাবিপর্যয়: ডাইনোসর বিলুপ্তির পরও যেভাবে টিকে ছিল কিছু প্রাণী

প্রায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার প্রশস্ত গ্রহাণুর আঘাতের পৃথিবী থেকে ডাইনোসর বিলুপ্ত হয়ে যায়

আজ থেকে প্রায় ৬ কোটি ৬০ লাখ বছর পূর্বে পৃথিবীর বুকে আছড়ে পড়েছিল এক বিশাল গ্রহাণু। এর আঘাত এতটাই তীব্র ছিল যে মুহূর্তের মধ্যে বিশ্বজুড়ে এক চরম ধ্বংসযজ্ঞ নেমে আসে। সংঘর্ষের ফলে প্রচণ্ড উত্তপ্ত পাথরের খণ্ড বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে, যা আকাশে এক বিশাল মাশরুম মেঘের সৃষ্টি করে। এর প্রতিক্রিয়ায় পৃথিবীর ওপরের বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা প্রায় ২২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে যায়। মেক্সিকো উপসাগর থেকে মাইলের পর মাইল উঁচু সুনামি ঢেউ পৃথিবীর মহাসাগরগুলোকে ওলট-পালট করে দেয়। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে দাবানল, যা বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল, উদ্ভিদ ও অসংখ্য প্রাণীকে পুড়িয়ে ছাই করে দেয়। তীব্র শক ওয়েভ সবকিছু চূর্ণবিচূর্ণ করে দিয়েছিল।

এই প্রাথমিক ধাক্কার পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। সংঘর্ষের ফলে নির্গত সালফার ও অন্যান্য ক্ষতিকর কণা বায়ুমণ্ডলের উঁচুতে উঠে সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে দেয়, যার ফলস্বরূপ শুরু হয় বিষাক্ত অ্যাসিড বৃষ্টি। প্রায় এক দশক ধরে সূর্যের আলো পৃথিবীতে পৌঁছাতে না পারায় সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায় এবং অধিকাংশ গাছপালা মারা যায়। এই মহাবিপর্যয়ের ধাক্কা সামলাতে না পেরে উড়ন্ত পাখি ব্যতীত ডাইনোসরসহ পৃথিবীর প্রায় ৭৫ শতাংশ প্রজাতি চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে যায়। তবে প্রশ্ন জাগে, এমন চরম প্রতিকূল পরিবেশেও পাখি, কচ্ছপ বা স্তন্যপায়ীর মতো কিছু প্রাণী কীভাবে নিজেদের রক্ষা করতে পেরেছিল?

বিজ্ঞানীরা জানান, সেই ভয়াবহ দিনে প্রাণীদের বেঁচে থাকার লড়াইয়ে তাদের আকার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। টাইরানোসরাস রেক্স বা ট্রাইসেরাটপসের মতো বিশাল আকৃতির ডাইনোসর এবং সাগরের দানবীয় সরীসৃপগুলো গ্রহাণুর আঘাতের মুহূর্ত থেকেই মারা যেতে শুরু করে। এদের বিশাল শরীরের কারণে প্রাথমিক বিস্ফোরণের ধাক্কা এড়ানো সম্ভব হয়নি, এবং মহাবিপদের সময় কোনো নিরাপদ স্থানে লুকিয়ে থাকার সুযোগও ছিল না। উপরন্তু, সংকটের সময়ে টিকে থাকার জন্য এদের যে বিপুল পরিমাণ খাদ্যের প্রয়োজন ছিল, তা প্রকৃতিতে অবশিষ্ট ছিল না।

অন্যদিকে, ডাইনোসরদের রাজত্বকালে যেসব স্তন্যপায়ী প্রাণী বা টিকটিকি টিকে গিয়েছিল, এদের আকার ছিল বড়জোর একটি সাধারণ বেজির মতো। এই ছোট আকারের কারণেই তারা মাটির নিচে বা পাথরের খাঁজে গর্ত খুঁড়ে আশ্রয় নিতে সক্ষম হয়েছিল, যা তাদের গ্রহাণুর তাত্ক্ষণিক আগুন এবং দীর্ঘমেয়াদী ধুলার ঝড় থেকে বাঁচিয়ে দেয়। কচ্ছপ বা মাছের মতো ছোট জলজ প্রাণীরা পানিতে আশ্রয় নিয়েছিল এবং তাদের খুব কম খাবারের প্রয়োজন হওয়ায় তারা অনাহার থেকে রক্ষা পায়।

বর্তমান পাখিদের পূর্বপুরুষেরা সেই কঠিন সময়ে টিকে গিয়েছিল মূলত তাদের ছোট শরীর এবং উড়ার ক্ষমতার কারণে। তাদের ডানার পেশি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে যেকোনো বিপদ দেখলেই তারা দ্রুত উড়ে দূরে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে পারত এবং সহজেই নতুন খাবারের সন্ধান পেত। এছাড়া, তাদের ছানারাও খুব দ্রুত বড় ও স্বাবলম্বী হয়ে উঠত, ফলে মা-বাবাকে দীর্ঘকাল ধরে বাচ্চাদের খাওয়ানোর জন্য অতিরিক্ত কষ্ট করতে হতো না। এই অসাধারণ গুণাবলির কারণেই শত বিপদের মধ্যেও তারা নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছিল।

ধ্বংসযজ্ঞের পর প্রাণীদের বেঁচে থাকার লড়াইয়ে খাদ্যাভ্যাসও একটি বড় ভূমিকা রেখেছিল। গ্রহাণুর আঘাতের পর প্রায় এক দশক ধরে সূর্যের আলো পৃথিবীতে পৌঁছাতে না পারায় সালোকসংশ্লেষণ বন্ধ হয়ে অধিকাংশ গাছপালা মারা যায়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে তৃণভোজী ডাইনোসর এবং তাদের শিকার করা মাংসাশী ডাইনোসরদের ওপর। খাবারের অভাবে তারা দ্রুত বিলুপ্ত হয়ে যায়। এমনকি কিছু ছোট আকৃতির টিকটিকি ও কচ্ছপও এই সময়ে টিকে থাকতে পারেনি, কারণ তাদের বেঁচে থাকা পুরোপুরি সবুজ উদ্ভিদের ওপর নির্ভরশীল ছিল।

স্থলভাগের তুলনায় সাগরের গভীর তলদেশ এবং নদীর পরিবেশ গ্রহাণুর প্রাথমিক ধাক্কা থেকে কিছুটা সুরক্ষিত থাকলেও, সেখানেও সূর্যালোকের অভাবে এককোষী উদ্ভিদ বা প্ল্যাঙ্কটন মারা যাওয়ায় পুরো খাদ্যশৃঙ্খল ভেঙে পড়ে। এতে বড় সামুদ্রিক প্রাণীরা অনাহারে মারা যায়। এই চরম সংকটে কেবল তারাই টিকে ছিল, যারা পানির নিচে জমে থাকা মৃত প্রাণীর পচা অংশ বা জৈব বর্জ্য খেয়ে জীবনধারণ করতে পারত। সামুদ্রিক স্পঞ্জ এবং বিশেষ প্রজাতির হাঙর ছিল এই সহনশীল প্রাণীদের মধ্যে অন্যতম।

যদিও অধিকাংশ গাছপালা মারা গিয়েছিল, মাটির নিচে থাকা বা ঝরে পড়া বীজ এবং পোকামাকড় কিন্তু ধ্বংস হয়ে যায়নি। ফলে যেসব পাখি বীজ খেত এবং যেসব ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী পোকামাকড় খেয়ে বেঁচে থাকত, তাদের খাদ্যের অভাব হয়নি। চরম আবহাওয়াতেও এই খাবারগুলো নষ্ট না হওয়ায় তারা সহজেই টিকে গিয়েছিল। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, যারা কেবল নির্দিষ্ট একটি খাবারের ওপর নির্ভর না করে সবকিছু খেতে পারত, এই মহাবিপদে তাদের বেঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি ছিল। ‘পারগেটোরিয়াস কোরাসিস’ নামের একটি ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী একই সঙ্গে পোকা, ফল ও বীজ সবই খেত। খাদ্যাভ্যাসের এই বহুমুখী গুণের কারণেই তারা পৃথিবী থেকে হারিয়ে যায়নি। আজকের যুগেও জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে লড়াইয়ে কাক বা র‍্যাকুনের মতো সর্বভুক প্রাণীরা এ কারণেই সহজে টিকে থাকে।

কিছু প্রাণী বেঁচে গিয়েছিল স্রেফ ভাগ্য এবং তাদের শিকারের টিকে থাকার গুণের কারণে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, শক্ত খোলসযুক্ত খাবার চিবিয়ে খাওয়ার বিশেষ ক্ষমতা বা ‘ডুরোফ্যাজি’ কৌশলটি প্রাণীদের বেঁচে থাকার হার অনেক বাড়িয়ে দিয়েছিল। এর পাশাপাশি দ্রুত বংশবৃদ্ধির ক্ষমতা এবং বদলে যাওয়া পরিবেশের সঙ্গে দ্রুত নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার আচরণই মূলত এই প্রাণীদের পৃথিবীর বুক থেকে চিরতরে হারিয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করেছিল। উল্লেখ্য, প্রায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার প্রশস্ত গ্রহাণুর আঘাতেই পৃথিবী থেকে ডাইনোসর বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল।

advertisement
advertisement

মরুর দেশের দুম্বা পালন করা হচ্ছে বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গায়, কতটা লাভজনক

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১১:০৯ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
মরুর দেশের দুম্বা পালন করা হচ্ছে বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গায়, কতটা লাভজনক

মরুর দেশের দুম্বা পালন করা হচ্ছে বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গায়, কতটা লাভজনক

অর্থনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গায় এবার মধ্যপ্রাচ্যের জনপ্রিয় মরুভূমির প্রাণী দুম্বা পালনের অভিনব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রচলিত গবাদিপশুর পাশাপাশি ভিন্নধর্মী এই প্রাণীটি লালন-পালন করে সফলতার মুখ দেখার চেষ্টা করছেন এ অঞ্চলের উদ্যোক্তারা। মূলত আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং খাদ্যাভ্যাস মিলে যাওয়ায় এই দেশীয় খামারগুলোতে দুম্বা বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে বেড়ে উঠছে।

উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, দুম্বা পালনের জন্য খুব বড় পরিসরে কোনো অবকাঠামোর প্রয়োজন হয় না এবং এর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বেশ ভালো। সাধারণ ছাগল বা ভেড়ার মতো করেই এদের পরিচর্যা করা সম্ভব, যা খামারিদের জন্য বাড়তি সুবিধা তৈরি করেছে। এর প্রধান খাদ্য হিসেবে ঘাস, খড় ও দানাদার খাবারের পাশাপাশি দেশীয় প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে, যা খরচ অনেকটাই কমিয়ে আনছে।

বর্তমানে বাজারে দুম্বার মাংসের প্রচুর চাহিদা থাকায় স্থানীয় পর্যায়ে এর অর্থনৈতিক সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কোরবানি ঈদ কিংবা বড় কোনো সামাজিক আয়োজনে এসব দুম্বার চড়া দাম পাওয়া যায়, যা খামারিদের মোটা অঙ্কের মুনাফা অর্জনে সাহায্য করছে। সাধারণ গরুর খামারের তুলনায় কম খরচে ও স্বল্প সময়ে দুম্বা বিক্রি করে বেশি লাভবান হওয়া সম্ভব হওয়ায় নতুন অনেকেই এই ব্যবসায় আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকেও দুম্বা পালনকারী উদ্যোক্তাদের সার্বিক পরামর্শ ও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে চুয়াডাঙ্গার গণ্ডি পেরিয়ে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও এই লাভজনক দুম্বা পালন ছড়িয়ে পড়বে বলে আশা প্রকাশ করছেন খামারি ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

সাইবার হামলায় অকেজো ইউরোপের সাত দেশের সুপারমার্কেট ফ্রিজ

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩ নভেম্বর ২০২৬, ৯:১০ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সাইবার হামলায় অকেজো ইউরোপের সাত দেশের সুপারমার্কেট ফ্রিজ

সাইবার হামলায় অকেজো ইউরোপের সাত দেশের সুপারমার্কেট ফ্রিজ

প্রযুক্তি ডেস্ক: ইউরোপের সাতটি দেশের অসংখ্য সুপারমার্কেটের হিমায়ন ব্যবস্থায় বড় ধরনের সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই আকস্মিক সাইবার আক্রমণের ফলে দোকানগুলোর বহু রেফ্রিজারেটর এবং ডিপ ফ্রিজ সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়ে। এর ফলে বিপণি বিতানগুলোতে সংরক্ষিত বিপুল পরিমাণ কাঁচা ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য নষ্ট হয়ে যাওয়ার তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর একাধিক সুপারমার্কেট চেইন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

আক্রান্ত হওয়া দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বেলজিয়াম, সুইডেন, আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড এবং লুক্সেমবার্গ। বেলজিয়াম ও লুক্সেমবার্গে ডেলহেইজের প্রায় চল্লিশটি শাখা এই হামলার শিকার হয়েছে। এছাড়া ফরাসি মালিকানাধীন সুপারমার্কেট ক্যারেফোরের বেলজিয়াম শাখা এবং কোলরুইট গ্রুপের পরিচালনাধীন স্পার স্টোরের বেশ কয়েকটি দোকানেও একই সমস্যা দেখা দিয়েছে। সুইডেনের আইকিয়া, আইসিএ এবং কুপের পাশাপাশি আয়ারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের বিভিন্ন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানও এই হামলার কবলে পড়েছে।

ফ্রিজ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান সাবকোবেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টেফান মোয়েলানস বেলগা সংবাদ সংস্থাকে জানান যে হ্যাকাররা সুনির্দিষ্ট কৌশলে ফ্রিজগুলোর ইভাপোরেটর ডিফ্রস্ট মোডে পাঠিয়ে দেয়। এর ফলে যন্ত্রগুলোর তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে শুরু করে এবং কিছু ক্ষেত্রে তা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে যায়। এর আগে কিছুদিন আগে ফ্রান্সেও একই কায়দায় সাইবার হামলা চালানো হয়েছিল। ইন্টারনেটের সঙ্গে সংযুক্ত থাকার সুবাদে দূর থেকেই এই ত্রুটি ঘটানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত যন্ত্রগুলো নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করতে কারিগরি দলগুলো রাতভর পরিশ্রম করেছে।

এই সাইবার হামলার পেছনে কারা জড়িত রয়েছে এবং কী উদ্দেশ্যে এটি করা হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট হয়নি। বেলজিয়াম, সুইডেন ও যুক্তরাজ্যের জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সংস্থাগুলো যৌথভাবে পুরো বিষয়টি গভীর পর্যবেক্ষণে রেখেছে। মার্কিন সামরিক ঘাঁটির হিমায়ন ব্যবস্থায় সম্প্রতি ঘটিত কোনো ত্রুটির সঙ্গে ইউরোপের এই ঘটনার যোগসূত্র রয়েছে কি না, তাতি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে বেলজিয়ামের একটি শাখা কর্তৃপক্ষ প্রায় এক লাখ ইউরো মূল্যের পণ্য নষ্ট হওয়ার কথা জানিয়েছে। তবে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেছে।

নিজ দলের কোন্দলেও চাঙা মার্কিন মুসলিম ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর সমর্থকেরা

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩ নভেম্বর ২০২৬, ৪:৫৮ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
নিজ দলের কোন্দলেও চাঙা মার্কিন মুসলিম ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর সমর্থকেরা

নিজ দলের কোন্দলেও চাঙা মার্কিন মুসলিম ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর সমর্থকেরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ডেমোক্র্যাট দলের ভেতরকার কোন্দল ও বিভক্তি নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান হ্যালি স্টিভেন্স নিজ দলের প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদকে সমর্থন না দিয়ে উল্টো বিরোধী দলের সিনেট প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। দলের একজন প্রভাবশালী নেতার এমন বিতর্কিত সিদ্ধান্ত সত্ত্বেও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আল-সাইয়েদের সমর্থকেরা দমে যাননি। বরং এই অভ্যন্তরীণ সংকটের কারণে তারা আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নেমেছেন এবং প্রচারণায় নতুন গতিশীলতা এসেছে।

সম্প্রতি মিশিগানের সাউথফিল্ডে আয়োজিত এক নির্বাচনি সমাবেশে আল-সাইয়েদের সমর্থকদের মধ্যে তীব্র উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ করা গেছে। সমাবেশে অংশ নেওয়া সাধারণ কর্মী ও সমর্থকেরা জানান, দলীয় নেতার এমন অবস্থান তাদের জন্য কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলেনি, বরং তাদের মনোবল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ডেমোক্র্যাট দলের সমর্থকেরা মনে করেন, দলের ভেতরের এই অনৈক্য উপেক্ষা করে আল-সাইয়েদের বিজয় নিশ্চিত করতে সবাইকে আরও জোরালোভাবে কাজ করতে হবে।

সমাবেশে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি মন্তব্য করেছেন যে, দলীয় প্রার্থীর বদলে রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত হ্যালি স্টিভেন্সের নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্যই ক্ষতিকর প্রমাণিত হতে পারে। তাদের মতে, এই ধরনের অবস্থান দলের ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে যা শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষেই বেশি কাজে লাগতে পারে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের এমন ঘটনাকে তারা একধরনের বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবেও অভিহিত করেছেন।

এদিকে দলীয় কোন্দলের মাঝেও আল-সাইয়েদের নির্বাচনি প্রচারশিবির দারুণ এক আর্থিক সাফল্যের মুখ দেখেছে। স্টিভেন্সের বিরোধিতার ঘোষণার পরপরই মাত্র একদিনের ব্যবধানে তাদের তহবিলে চব্বিশ লাখ ডলারের বেশি জমা হয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ঊনত্রিশ কোটি টাকা। প্রচারণা শুরু হওয়ার পর এটিই তাদের একদিনে সর্বোচ্চ ফান্ড সংগ্রহের রেকর্ড। এই অভাবনীয় সাফল্যকে সমর্থকেরা নিছক কাকতালীয় বলতে নারাজ, বরং একে তারা দলীয় ঐক্যের বড় প্রমাণ হিসেবে দেখছেন।