খুঁজুন
advertisement
advertisement
শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ২১ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

শৈশবের যে ১০টি ইতিবাচক অভ্যাস গড়ে তোলে সফলতার ভিত্তি

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৫ নভেম্বর ২০২৬, ৪:২৩ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
শৈশবের যে ১০টি ইতিবাচক অভ্যাস গড়ে তোলে সফলতার ভিত্তি

মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস

বিজ্ঞানী, ক্রীড়াবিদ, সাহিত্যিক কিংবা বিত্তবান উদ্যোক্তা—সফল ব্যক্তিদের জীবনধারা ভিন্ন হলেও তাঁদের শৈশবে গড়ে ওঠা কিছু সাধারণ অভ্যাস পরবর্তী জীবনে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। নিয়মিত অধ্যয়ন, অনুসন্ধিৎসু মন, নিরবচ্ছিন্ন অনুশীলন আর প্রতিকূলতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার মতো অভ্যাসগুলো জীবনের শুরু থেকেই তৈরি করা সম্ভব। বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জীবনের নানা অভিজ্ঞতা থেকে এমন ১০টি তাৎপর্যপূর্ণ অভ্যাসের চিত্র পাওয়া যায়।

১. ব্যাপক পড়াশোনা: বই পড়ার গুরুত্ব তুলে ধরে সাহিত্যিক সৈয়দ শামসুল হক বলেছিলেন, ‘পড়ার বাইরে আমার তিনটে উপদেশ আছে—পড়ো, পড়ো এবং পড়ো।’ নতুন তথ্য আবিষ্কার, কল্পনাশক্তির বিস্তার ও ভিন্নভাবে ভাবতে বইয়ের ভূমিকা অপরিসীম। প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের শৈশবে পড়াশোনার গভীর প্রভাব ছিল; একইভাবে বিল গেটসও অল্প বয়স থেকেই বিচিত্র বিষয়ে বই পড়তেন। সফল বিনিয়োগকারী ওয়ারেন বাফেটও অবিরাম পাঠাভ্যাসের কথা গুরুত্ব দিয়ে বলেন। ইতিহাস, বিজ্ঞান, রূপকথা বা জীবনীপাঠ যেকোনো শিশুর চিন্তার পরিধিকে সমৃদ্ধ করতে পারে।

২. জিজ্ঞাসা ও অনুসন্ধিৎসা: প্রচলিত ছড়ার চরণে রয়েছে—‘মাথায় কত প্রশ্ন আসে, দিচ্ছে না কেউ জবাব তার, সবাই বলে মিথ্যে বাজে বকিস নে আর খবরদার।’ আকাশের নীল রং, পিঁপড়ার সুশৃঙ্খল চলন কিংবা চুম্বকের লোহা টানার মতো বিস্ময় থেকেই অনুসন্ধানের শুরু। পদার্থবিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন ছোটবেলায় তাঁর বাবার উপহার দেওয়া একটি কম্পাসের কাঁটার নির্দিষ্ট দিকে নির্দেশ করার রহস্য দেখে গভীরভাবে চমকিত হয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে তাঁকে প্রকৃতির রহস্য উন্মোচনে অনুপ্রাণিত করে। যেকোনো বড় আবিষ্কারের সূচনা হয় একটি সাধারণ প্রশ্নের উত্তর খোঁজার মধ্য দিয়ে।

৩. নিয়মিত ও নিবিড় চর্চা: ‘প্র্যাকটিস মেকস আ ম্যান পারফেক্ট!’ যেকোনো দক্ষতায় পারদর্শিতা অর্জনের মূল চাবিকাঠি হলো অনুশীলন। তারকা ফুটবলার লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর শ্রেষ্ঠত্বের নেপথ্যে রয়েছে বছরের পর বছর ধরে চলা কঠোর সাধনা। ক্রীড়াঙ্গন ছাড়াও বিজ্ঞানী, সংগীতশিল্পী কিংবা লেখকদের ক্ষেত্রেও এ নিয়ম সমভাবে প্রযোজ্য। কঠিন গণিত সমাধান, বাদ্যযন্ত্র বাজানো কিংবা লেখার চর্চায় তাৎক্ষণিক সাফল্য না এলেও ক্রমাগত পরিশ্রমে উন্নতি নিশ্চিত হয়।

৪. শৈশব থেকেই উদ্যোগী হওয়া: ‘মর্নিং শোজ দ্য ডে!’ ছোটবেলাতেই দায়িত্বশীল হওয়া বা নিজে কিছু করার তাগিদ ভবিষ্যৎ জীবনের পথ তৈরি করে। বিশিষ্ট বিনিয়োগকারী ওয়ারেন বাফেট বাল্যকালে চুইংগাম বিক্রি এবং পরবর্তীতে সংবাদপত্র বিতরণের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করেছিলেন। বিদ্যালয়ের কোনো প্রকল্পে নেতৃত্ব দেওয়া, সমস্যার সমাধান করা বা নিজস্ব ভাবনা বাস্তবায়ন শিশুদের আত্মবিশ্বাস কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়।

৫. প্রতিকূলতা জয় ও ভুল থেকে শিক্ষা: কার্টুন চরিত্র মিকি মাউসের স্রষ্টা ওয়াল্ট ডিজনি বলেছিলেন, ‘আমাদের সব স্বপ্নই সত্যি হতে পারে, যদি সেগুলো পূরণ করার সাহস থাকে।’ ব্যর্থতা মানেই চূড়ান্ত সমাপ্তি নয়, বরং তা ভুল শুধরে নেওয়ার সুযোগ করে দেয়। মেসি ও রোনালদো দুজনকেই শারীরিক সীমাবদ্ধতা, তীব্র প্রতিযোগিতা এবং আকাশচুম্বী প্রত্যাশার চাপ পেরিয়ে প্রতিষ্ঠা পেতে হয়েছে। কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে ব্যর্থতাকে শক্তিতে পরিণত করে নতুন পরিকল্পনায় এগিয়ে যেতে হয়।

৬. শারীরিক সচলতা ও সুস্থতা: ‘সুস্থ দেহে সুস্থ মন!’ শরীরকে কর্মক্ষম রাখতে নিয়মিত খেলাধুলা, হাঁটা এবং বয়সোপযোগী শরীরচর্চা অত্যন্ত জরুরি। কেবল ক্রীড়াবিদই নন, লেখক, গবেষক ও উদ্যোক্তাদের জন্যও শারীরিক সুস্থতা অপরিহার্য। দীর্ঘ সময় পড়াশোনা বা কাজের ফাঁকে বন্ধুদের সঙ্গে খেলা, মুক্ত বাতাসে হাঁটা ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া মানসিক সতেজতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

৭. সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ: কাজী নজরুল ইসলামের অমর পঙ্‌ক্তি ‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী’ সৃজনশীল সত্তার প্রকাশ ঘটায়। সংগীত, চিত্রাঙ্কন কিংবা লেখালেখি মানুষের চিন্তার পরিসরকে উন্মুক্ত করে দেয়। বিজ্ঞানী আইনস্টাইন গবেষণার পাশাপাশি বেহালা বাজাতে অত্যন্ত ভালোবাসতেন। নিজের পছন্দের সৃজনশীল কাজে নিখুঁত হওয়ার চেয়ে তার মধ্য দিয়ে সৃষ্টির আনন্দ উপলব্ধি করাই মূল বিষয়।

৮. নিজস্ব চিন্তাভাবনার বিকাশ: দার্শনিক ফ্রান্সিস বেকনের মতে, ‘একটি বিচক্ষণ প্রশ্ন হলো প্রজ্ঞার অর্ধেক।’ অন্যের মত হুবহু গ্রহণ না করে সত্যতা যাচাই ও যুক্তির নিরিখে মূল্যায়ন করা উচিত। আলবার্ট আইনস্টাইনের মতো গবেষকেরা প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে যুক্তিবোধ দিয়ে মহাবিশ্বকে বোঝার চেষ্টা করেছিলেন। ভিন্নমত শোনা, ভুল স্বীকার করা এবং যুক্তিনির্ভর চিন্তা স্বাধীন ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটায়।

৯. সময়ের সদ্ব্যবহার ও ধারাবাহিকতা: প্রযুক্তি ব্যক্তিত্ব স্টিভ জবসের একটি প্রচলিত বক্তব্য অনুযায়ী, ‘সময় হলো মানুষের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ।’ প্রতিটি মুহূর্ত কাজের মধ্যে কাটানো নয়, বরং বিনোদন ও বিশ্রামের পাশাপাশি কাজের সঠিক পরিকল্পনা থাকা জরুরি। প্রতিদিন অল্প অল্প করে ধারাবাহিকভাবে কাজ এগিয়ে নিয়ে গেলে দীর্ঘমেয়াদে বড় সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হয়।

১০. লক্ষ্যের প্রতি অবিচল থাকা: ‘যদি লক্ষ্য থাকে অটুট, বিশ্বাস হৃদয়ে, হবেই হবেই দেখা, দেখা হবে বিজয়ে।’ ২০১৭ সালের ২১ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে ‘উইমেনস মার্চ’-এ অংশ নেওয়া লেখক ও নারীবাদী চিন্তাবিদ গ্লোরিয়া স্টাইনেম একবার বলেছিলেন, ‘স্বপ্ন দেখা তো আসলে একধরনের পরিকল্পনা।’ তাই কেবল স্বপ্ন দেখলেই চলবে না, ছোট ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ করে তা পূরণের জন্য নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। সাফল্য লাভের কোনো বাঁধাধরা নিয়ম না থাকলেও নিয়মিত অভ্যাস ও নিষ্ঠার মাধ্যমে জীবনের যেকোনো বড় পরিবর্তন শুরু করা যায় আজ থেকেই।

advertisement
advertisement

মরুর দেশের দুম্বা পালন করা হচ্ছে বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গায়, কতটা লাভজনক

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৫ নভেম্বর ২০২৬, ৪:১৪ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
মরুর দেশের দুম্বা পালন করা হচ্ছে বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গায়, কতটা লাভজনক

মরুর দেশের দুম্বা পালন করা হচ্ছে বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গায়, কতটা লাভজনক

অর্থনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গায় এবার মধ্যপ্রাচ্যের জনপ্রিয় মরুভূমির প্রাণী দুম্বা পালনের অভিনব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রচলিত গবাদিপশুর পাশাপাশি ভিন্নধর্মী এই প্রাণীটি লালন-পালন করে সফলতার মুখ দেখার চেষ্টা করছেন এ অঞ্চলের উদ্যোক্তারা। মূলত আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং খাদ্যাভ্যাস মিলে যাওয়ায় এই দেশীয় খামারগুলোতে দুম্বা বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে বেড়ে উঠছে।

উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, দুম্বা পালনের জন্য খুব বড় পরিসরে কোনো অবকাঠামোর প্রয়োজন হয় না এবং এর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বেশ ভালো। সাধারণ ছাগল বা ভেড়ার মতো করেই এদের পরিচর্যা করা সম্ভব, যা খামারিদের জন্য বাড়তি সুবিধা তৈরি করেছে। এর প্রধান খাদ্য হিসেবে ঘাস, খড় ও দানাদার খাবারের পাশাপাশি দেশীয় প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে, যা খরচ অনেকটাই কমিয়ে আনছে।

বর্তমানে বাজারে দুম্বার মাংসের প্রচুর চাহিদা থাকায় স্থানীয় পর্যায়ে এর অর্থনৈতিক সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কোরবানি ঈদ কিংবা বড় কোনো সামাজিক আয়োজনে এসব দুম্বার চড়া দাম পাওয়া যায়, যা খামারিদের মোটা অঙ্কের মুনাফা অর্জনে সাহায্য করছে। সাধারণ গরুর খামারের তুলনায় কম খরচে ও স্বল্প সময়ে দুম্বা বিক্রি করে বেশি লাভবান হওয়া সম্ভব হওয়ায় নতুন অনেকেই এই ব্যবসায় আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকেও দুম্বা পালনকারী উদ্যোক্তাদের সার্বিক পরামর্শ ও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে চুয়াডাঙ্গার গণ্ডি পেরিয়ে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও এই লাভজনক দুম্বা পালন ছড়িয়ে পড়বে বলে আশা প্রকাশ করছেন খামারি ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

সাইবার হামলায় অকেজো ইউরোপের সাত দেশের সুপারমার্কেট ফ্রিজ

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২:১৯ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সাইবার হামলায় অকেজো ইউরোপের সাত দেশের সুপারমার্কেট ফ্রিজ

সাইবার হামলায় অকেজো ইউরোপের সাত দেশের সুপারমার্কেট ফ্রিজ

প্রযুক্তি ডেস্ক: ইউরোপের সাতটি দেশের অসংখ্য সুপারমার্কেটের হিমায়ন ব্যবস্থায় বড় ধরনের সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই আকস্মিক সাইবার আক্রমণের ফলে দোকানগুলোর বহু রেফ্রিজারেটর এবং ডিপ ফ্রিজ সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়ে। এর ফলে বিপণি বিতানগুলোতে সংরক্ষিত বিপুল পরিমাণ কাঁচা ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য নষ্ট হয়ে যাওয়ার তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর একাধিক সুপারমার্কেট চেইন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

আক্রান্ত হওয়া দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বেলজিয়াম, সুইডেন, আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড এবং লুক্সেমবার্গ। বেলজিয়াম ও লুক্সেমবার্গে ডেলহেইজের প্রায় চল্লিশটি শাখা এই হামলার শিকার হয়েছে। এছাড়া ফরাসি মালিকানাধীন সুপারমার্কেট ক্যারেফোরের বেলজিয়াম শাখা এবং কোলরুইট গ্রুপের পরিচালনাধীন স্পার স্টোরের বেশ কয়েকটি দোকানেও একই সমস্যা দেখা দিয়েছে। সুইডেনের আইকিয়া, আইসিএ এবং কুপের পাশাপাশি আয়ারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের বিভিন্ন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানও এই হামলার কবলে পড়েছে।

ফ্রিজ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান সাবকোবেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টেফান মোয়েলানস বেলগা সংবাদ সংস্থাকে জানান যে হ্যাকাররা সুনির্দিষ্ট কৌশলে ফ্রিজগুলোর ইভাপোরেটর ডিফ্রস্ট মোডে পাঠিয়ে দেয়। এর ফলে যন্ত্রগুলোর তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে শুরু করে এবং কিছু ক্ষেত্রে তা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে যায়। এর আগে কিছুদিন আগে ফ্রান্সেও একই কায়দায় সাইবার হামলা চালানো হয়েছিল। ইন্টারনেটের সঙ্গে সংযুক্ত থাকার সুবাদে দূর থেকেই এই ত্রুটি ঘটানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত যন্ত্রগুলো নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করতে কারিগরি দলগুলো রাতভর পরিশ্রম করেছে।

এই সাইবার হামলার পেছনে কারা জড়িত রয়েছে এবং কী উদ্দেশ্যে এটি করা হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট হয়নি। বেলজিয়াম, সুইডেন ও যুক্তরাজ্যের জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সংস্থাগুলো যৌথভাবে পুরো বিষয়টি গভীর পর্যবেক্ষণে রেখেছে। মার্কিন সামরিক ঘাঁটির হিমায়ন ব্যবস্থায় সম্প্রতি ঘটিত কোনো ত্রুটির সঙ্গে ইউরোপের এই ঘটনার যোগসূত্র রয়েছে কি না, তাতি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে বেলজিয়ামের একটি শাখা কর্তৃপক্ষ প্রায় এক লাখ ইউরো মূল্যের পণ্য নষ্ট হওয়ার কথা জানিয়েছে। তবে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেছে।

নিজ দলের কোন্দলেও চাঙা মার্কিন মুসলিম ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর সমর্থকেরা

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২:২৬ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
নিজ দলের কোন্দলেও চাঙা মার্কিন মুসলিম ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর সমর্থকেরা

নিজ দলের কোন্দলেও চাঙা মার্কিন মুসলিম ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর সমর্থকেরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ডেমোক্র্যাট দলের ভেতরকার কোন্দল ও বিভক্তি নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান হ্যালি স্টিভেন্স নিজ দলের প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদকে সমর্থন না দিয়ে উল্টো বিরোধী দলের সিনেট প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। দলের একজন প্রভাবশালী নেতার এমন বিতর্কিত সিদ্ধান্ত সত্ত্বেও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আল-সাইয়েদের সমর্থকেরা দমে যাননি। বরং এই অভ্যন্তরীণ সংকটের কারণে তারা আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নেমেছেন এবং প্রচারণায় নতুন গতিশীলতা এসেছে।

সম্প্রতি মিশিগানের সাউথফিল্ডে আয়োজিত এক নির্বাচনি সমাবেশে আল-সাইয়েদের সমর্থকদের মধ্যে তীব্র উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ করা গেছে। সমাবেশে অংশ নেওয়া সাধারণ কর্মী ও সমর্থকেরা জানান, দলীয় নেতার এমন অবস্থান তাদের জন্য কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলেনি, বরং তাদের মনোবল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ডেমোক্র্যাট দলের সমর্থকেরা মনে করেন, দলের ভেতরের এই অনৈক্য উপেক্ষা করে আল-সাইয়েদের বিজয় নিশ্চিত করতে সবাইকে আরও জোরালোভাবে কাজ করতে হবে।

সমাবেশে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি মন্তব্য করেছেন যে, দলীয় প্রার্থীর বদলে রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত হ্যালি স্টিভেন্সের নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্যই ক্ষতিকর প্রমাণিত হতে পারে। তাদের মতে, এই ধরনের অবস্থান দলের ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে যা শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষেই বেশি কাজে লাগতে পারে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের এমন ঘটনাকে তারা একধরনের বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবেও অভিহিত করেছেন।

এদিকে দলীয় কোন্দলের মাঝেও আল-সাইয়েদের নির্বাচনি প্রচারশিবির দারুণ এক আর্থিক সাফল্যের মুখ দেখেছে। স্টিভেন্সের বিরোধিতার ঘোষণার পরপরই মাত্র একদিনের ব্যবধানে তাদের তহবিলে চব্বিশ লাখ ডলারের বেশি জমা হয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ঊনত্রিশ কোটি টাকা। প্রচারণা শুরু হওয়ার পর এটিই তাদের একদিনে সর্বোচ্চ ফান্ড সংগ্রহের রেকর্ড। এই অভাবনীয় সাফল্যকে সমর্থকেরা নিছক কাকতালীয় বলতে নারাজ, বরং একে তারা দলীয় ঐক্যের বড় প্রমাণ হিসেবে দেখছেন।