খুঁজুন
advertisement
advertisement
শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ২১ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

ডেঙ্গুতে মৃত্যু তিন শতাধিক ছাড়াল: মশার উপদ্রব নাকি প্রশাসনিক সুশাসনের ব্যর্থতা

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ৫:৫৮ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ডেঙ্গুতে মৃত্যু তিন শতাধিক ছাড়াল: মশার উপদ্রব নাকি প্রশাসনিক সুশাসনের ব্যর্থতা

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত শিশু। ঢাকা শিশু হাসপাতাল, রাজধানী ঢাকা

একই কাজের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে ভিন্ন ফলাফলের আশা করাকে উন্মাদনা আখ্যা দিয়েছিলেন বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন। বাংলাদেশে এডিস মশা ও ডেঙ্গু মোকাবিলার বর্তমান সরকারি পদক্ষেপগুলোও যেন সেই একই বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে। চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ইতোমধ্যেই তিন শতাধিক ছাড়িয়ে গেছে। বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে রোগীদের মেঝে ও সিঁড়িতে অবস্থান নিয়ে সেবা নিতে হচ্ছে এবং উদ্ভূত সংকট সামলাতে প্রয়োজনে সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত রাখার কথাও সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সরকার, দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী কিংবা সিটি করপোরেশনের শীর্ষ পদে পরিবর্তন এলেও পরিস্থিতির দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন ঘটেনি, যা কেবল প্রশাসনিক দুর্বলতা নয় বরং শাসনব্যবস্থার সামগ্রিক ব্যর্থতারই বহিঃপ্রকাশ।

আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে এই পরিস্থিতি সরাসরি সাংবিধানিক দায়বদ্ধতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে নাগরিকের জীবনের অধিকার এবং ১৮ অনুচ্ছেদে জনস্বাস্থ্যের মানোন্নয়নে রাষ্ট্রের অঙ্গীকারের কথা বলা হয়েছে। দেশের শীর্ষ আদালতের একাধিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই অধিকার মূলত স্বাস্থ্যকর ও সুরক্ষিত পরিবেশে বসবাসের নিশ্চয়তা দেয়। ফলে প্রতিরোধযোগ্য একটি ব্যাধিতে প্রতিবছর বিপুল প্রাণহানি এই সাংবিধানিক প্রতিশ্রুতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। অথচ সিঙ্গাপুর বা ইন্দোনেশিয়ার মতো উষ্ণমণ্ডলীয় দেশগুলো বিজ্ঞানভিত্তিক নজরদারি, উৎসমূল ধ্বংস এবং জবাবদিহির মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সাফল্য দেখিয়েছে। এক গবেষক কীটতত্ত্ববিদের মতে, এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হলে বিগত বছরে ৬২ হাজারের বেশি মানুষ সংক্রমিত হতেন না।

সরকারি জরিপেই ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ১৩টি ওয়ার্ডকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে সিমেন্টের পানির আধার ও স্যাঁতসেঁতে মেঝেকে প্রধান প্রজননস্থল বলা হয়েছিল। সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকা সত্ত্বেও কার্যকর পদক্ষেপের ঘাটতি দায়িত্বগত চরম অবহেলার পরিচায়ক। এর আগে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মশার প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনকে ভর্ৎসনা করে নির্দিষ্ট মেয়াদে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। তবে সংকটটি জাতীয় হওয়ায় কেবল স্থানভিত্তিক হস্তক্ষেপের বদলে পরিবেশদূষণ বা সড়ক নিরাপত্তার মতো ডেঙ্গু প্রতিরোধেও আদালত থেকে দেশের সব পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের জন্য সামগ্রিক নির্দেশনা ও জাতীয় বিচারিক রূপরেখা প্রণয়ন জরুরি হয়ে পড়েছে।

প্রতিবছর শত শত কোটি টাকা ব্যয় করে কীটনাশক ছিটানো হলেও ওষুধের কার্যকারিতা যাচাই কিংবা ওয়ার্ডভিত্তিক ঘনত্বের কোনো স্বাধীন নিরীক্ষা নেই। অতীতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়াই ক্ষমতাসীন দলের এক নেতার প্রতিষ্ঠান থেকে লাখ লাখ টাকার ওষুধ কেনার ঘটনা ঘটেছে এবং পটপরিবর্তনের পরও একজন উপদেষ্টার স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে ওষুধ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন কার্যকারিতাহীনতার দায়ে যে কীটনাশক বাতিল করেছিল, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন তা ব্যবহার অব্যাহত রাখে। এমনকি সম্প্রতি দক্ষিণ সিটির কীটনাশক মজুতাগারে দুর্নীতি দমন কমিশন অভিযান চালিয়ে জালিয়াতির তথ্য পায়। সরকারি অর্থ ব্যয়ে নিম্নমানের কীটনাশক ব্যবহার এবং তার ফলে প্রাণহানি ফৌজদারি আইনের দৃষ্টিতে অবহেলাজনিত অপরাধের শামিল, যার দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া আবশ্যক।

সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞদের বৈঠকে প্রতিটি ওয়ার্ডকে উপ-অঞ্চলে বিভক্ত করে সমন্বিত কার্যক্রমের সিদ্ধান্ত হলেও তা কার্যকর হয়নি। অথচ পার্শ্ববর্তী কলকাতার অভিজ্ঞতা বলছে, সাময়িক ফগিংয়ের চেয়ে বর্ষা শুরুর আগেই নভেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত টানা আট মাস প্রাক-মৌসুম উৎসমূল ধ্বংসের কাজ চালিয়ে তারা সাফল্য পেয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ডেঙ্গুকে মৌসুমি নয় বরং বছরব্যাপী স্থায়ী জনস্বাস্থ্য অগ্রাধিকার হিসেবে আইনগত স্বীকৃতি দেওয়া, সংক্রামক রোগ ও স্থানীয় সরকার আইনে জবাবদিহিমূলক কর্মদক্ষতার সূচক যুক্ত করা, কীটনাশক ক্রয়ে বাধ্যতামূলক স্বাধীন নিরীক্ষা নিশ্চিত করা, প্রাতিষ্ঠানিক অবহেলায় মৃত্যুর ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং সুশীল সমাজ ও আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে জনস্বার্থে মামলা পরিচালনার প্রস্তাব তুলে ধরেছেন নগর অধিকারকর্মী ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ওমর সাদাত।

advertisement
advertisement

মরুর দেশের দুম্বা পালন করা হচ্ছে বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গায়, কতটা লাভজনক

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৫ নভেম্বর ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
মরুর দেশের দুম্বা পালন করা হচ্ছে বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গায়, কতটা লাভজনক

মরুর দেশের দুম্বা পালন করা হচ্ছে বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গায়, কতটা লাভজনক

অর্থনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গায় এবার মধ্যপ্রাচ্যের জনপ্রিয় মরুভূমির প্রাণী দুম্বা পালনের অভিনব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রচলিত গবাদিপশুর পাশাপাশি ভিন্নধর্মী এই প্রাণীটি লালন-পালন করে সফলতার মুখ দেখার চেষ্টা করছেন এ অঞ্চলের উদ্যোক্তারা। মূলত আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং খাদ্যাভ্যাস মিলে যাওয়ায় এই দেশীয় খামারগুলোতে দুম্বা বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে বেড়ে উঠছে।

উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, দুম্বা পালনের জন্য খুব বড় পরিসরে কোনো অবকাঠামোর প্রয়োজন হয় না এবং এর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বেশ ভালো। সাধারণ ছাগল বা ভেড়ার মতো করেই এদের পরিচর্যা করা সম্ভব, যা খামারিদের জন্য বাড়তি সুবিধা তৈরি করেছে। এর প্রধান খাদ্য হিসেবে ঘাস, খড় ও দানাদার খাবারের পাশাপাশি দেশীয় প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে, যা খরচ অনেকটাই কমিয়ে আনছে।

বর্তমানে বাজারে দুম্বার মাংসের প্রচুর চাহিদা থাকায় স্থানীয় পর্যায়ে এর অর্থনৈতিক সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কোরবানি ঈদ কিংবা বড় কোনো সামাজিক আয়োজনে এসব দুম্বার চড়া দাম পাওয়া যায়, যা খামারিদের মোটা অঙ্কের মুনাফা অর্জনে সাহায্য করছে। সাধারণ গরুর খামারের তুলনায় কম খরচে ও স্বল্প সময়ে দুম্বা বিক্রি করে বেশি লাভবান হওয়া সম্ভব হওয়ায় নতুন অনেকেই এই ব্যবসায় আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকেও দুম্বা পালনকারী উদ্যোক্তাদের সার্বিক পরামর্শ ও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে চুয়াডাঙ্গার গণ্ডি পেরিয়ে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও এই লাভজনক দুম্বা পালন ছড়িয়ে পড়বে বলে আশা প্রকাশ করছেন খামারি ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

সাইবার হামলায় অকেজো ইউরোপের সাত দেশের সুপারমার্কেট ফ্রিজ

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৫ নভেম্বর ২০২৬, ৭:১০ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সাইবার হামলায় অকেজো ইউরোপের সাত দেশের সুপারমার্কেট ফ্রিজ

সাইবার হামলায় অকেজো ইউরোপের সাত দেশের সুপারমার্কেট ফ্রিজ

প্রযুক্তি ডেস্ক: ইউরোপের সাতটি দেশের অসংখ্য সুপারমার্কেটের হিমায়ন ব্যবস্থায় বড় ধরনের সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই আকস্মিক সাইবার আক্রমণের ফলে দোকানগুলোর বহু রেফ্রিজারেটর এবং ডিপ ফ্রিজ সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়ে। এর ফলে বিপণি বিতানগুলোতে সংরক্ষিত বিপুল পরিমাণ কাঁচা ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য নষ্ট হয়ে যাওয়ার তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর একাধিক সুপারমার্কেট চেইন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

আক্রান্ত হওয়া দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বেলজিয়াম, সুইডেন, আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড এবং লুক্সেমবার্গ। বেলজিয়াম ও লুক্সেমবার্গে ডেলহেইজের প্রায় চল্লিশটি শাখা এই হামলার শিকার হয়েছে। এছাড়া ফরাসি মালিকানাধীন সুপারমার্কেট ক্যারেফোরের বেলজিয়াম শাখা এবং কোলরুইট গ্রুপের পরিচালনাধীন স্পার স্টোরের বেশ কয়েকটি দোকানেও একই সমস্যা দেখা দিয়েছে। সুইডেনের আইকিয়া, আইসিএ এবং কুপের পাশাপাশি আয়ারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের বিভিন্ন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানও এই হামলার কবলে পড়েছে।

ফ্রিজ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান সাবকোবেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টেফান মোয়েলানস বেলগা সংবাদ সংস্থাকে জানান যে হ্যাকাররা সুনির্দিষ্ট কৌশলে ফ্রিজগুলোর ইভাপোরেটর ডিফ্রস্ট মোডে পাঠিয়ে দেয়। এর ফলে যন্ত্রগুলোর তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে শুরু করে এবং কিছু ক্ষেত্রে তা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে যায়। এর আগে কিছুদিন আগে ফ্রান্সেও একই কায়দায় সাইবার হামলা চালানো হয়েছিল। ইন্টারনেটের সঙ্গে সংযুক্ত থাকার সুবাদে দূর থেকেই এই ত্রুটি ঘটানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত যন্ত্রগুলো নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করতে কারিগরি দলগুলো রাতভর পরিশ্রম করেছে।

এই সাইবার হামলার পেছনে কারা জড়িত রয়েছে এবং কী উদ্দেশ্যে এটি করা হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট হয়নি। বেলজিয়াম, সুইডেন ও যুক্তরাজ্যের জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সংস্থাগুলো যৌথভাবে পুরো বিষয়টি গভীর পর্যবেক্ষণে রেখেছে। মার্কিন সামরিক ঘাঁটির হিমায়ন ব্যবস্থায় সম্প্রতি ঘটিত কোনো ত্রুটির সঙ্গে ইউরোপের এই ঘটনার যোগসূত্র রয়েছে কি না, তাতি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে বেলজিয়ামের একটি শাখা কর্তৃপক্ষ প্রায় এক লাখ ইউরো মূল্যের পণ্য নষ্ট হওয়ার কথা জানিয়েছে। তবে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেছে।

নিজ দলের কোন্দলেও চাঙা মার্কিন মুসলিম ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর সমর্থকেরা

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৫ নভেম্বর ২০২৬, ৭:০৯ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
নিজ দলের কোন্দলেও চাঙা মার্কিন মুসলিম ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর সমর্থকেরা

নিজ দলের কোন্দলেও চাঙা মার্কিন মুসলিম ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর সমর্থকেরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ডেমোক্র্যাট দলের ভেতরকার কোন্দল ও বিভক্তি নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান হ্যালি স্টিভেন্স নিজ দলের প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদকে সমর্থন না দিয়ে উল্টো বিরোধী দলের সিনেট প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। দলের একজন প্রভাবশালী নেতার এমন বিতর্কিত সিদ্ধান্ত সত্ত্বেও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আল-সাইয়েদের সমর্থকেরা দমে যাননি। বরং এই অভ্যন্তরীণ সংকটের কারণে তারা আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নেমেছেন এবং প্রচারণায় নতুন গতিশীলতা এসেছে।

সম্প্রতি মিশিগানের সাউথফিল্ডে আয়োজিত এক নির্বাচনি সমাবেশে আল-সাইয়েদের সমর্থকদের মধ্যে তীব্র উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ করা গেছে। সমাবেশে অংশ নেওয়া সাধারণ কর্মী ও সমর্থকেরা জানান, দলীয় নেতার এমন অবস্থান তাদের জন্য কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলেনি, বরং তাদের মনোবল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ডেমোক্র্যাট দলের সমর্থকেরা মনে করেন, দলের ভেতরের এই অনৈক্য উপেক্ষা করে আল-সাইয়েদের বিজয় নিশ্চিত করতে সবাইকে আরও জোরালোভাবে কাজ করতে হবে।

সমাবেশে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি মন্তব্য করেছেন যে, দলীয় প্রার্থীর বদলে রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত হ্যালি স্টিভেন্সের নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্যই ক্ষতিকর প্রমাণিত হতে পারে। তাদের মতে, এই ধরনের অবস্থান দলের ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে যা শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষেই বেশি কাজে লাগতে পারে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের এমন ঘটনাকে তারা একধরনের বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবেও অভিহিত করেছেন।

এদিকে দলীয় কোন্দলের মাঝেও আল-সাইয়েদের নির্বাচনি প্রচারশিবির দারুণ এক আর্থিক সাফল্যের মুখ দেখেছে। স্টিভেন্সের বিরোধিতার ঘোষণার পরপরই মাত্র একদিনের ব্যবধানে তাদের তহবিলে চব্বিশ লাখ ডলারের বেশি জমা হয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ঊনত্রিশ কোটি টাকা। প্রচারণা শুরু হওয়ার পর এটিই তাদের একদিনে সর্বোচ্চ ফান্ড সংগ্রহের রেকর্ড। এই অভাবনীয় সাফল্যকে সমর্থকেরা নিছক কাকতালীয় বলতে নারাজ, বরং একে তারা দলীয় ঐক্যের বড় প্রমাণ হিসেবে দেখছেন।